এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক:  ল্যাবরেটরি টেস্টের ফি সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা না করে নিজে ব্যাংক হিসাব খুলে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে কুমিল্লার আদালত।

একই মামলার অপর আসামি প্রাক্তন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মৃত মো: মাজহারুল আলমের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১০ লাখ টাকা সুদসহ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছে ঐ আদালত। আজ বুধবার কুমিল্লার স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত প্রদত্ত রায়ের কপি থেকে জানা যায়, মো: হারুন-উর-রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডি কুমিল্লায় কর্মরত থাকাকালে ২০০১ সালের ১ ডিসেম্বর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লি: কুমিল্লার শাখার ‘EX EN LGED COMILLA’ শিরোনামে মুদারাবা স্পেশাল ডিপোজিট একাউন্ট খোলেন। একাউন্ট খোলার পর ২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ল্যাবরেটরি টেস্ট ফি বাবত গৃহীত টাকা ওই একাউন্টে জমা দেন। ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই একাউন্টে জমা ও উত্তোলনের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ ৩৫ টাকা ১৩ পয়সা। চেকের মাধ্যমে ও নগদে এ টাকা উত্তোলন করা হয় এবং ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ একাউন্ট বন্ধ করা হয়।

জানা গেছে, ল্যাবরেটরি টেস্ট ফি সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা করতে হয়। কিন্তু মো: হারুন-উর-রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি সরকারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা না করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট নম্বরে জমা করেন। এ একাউন্টটি ছিল অবৈধ। এছাড়া ল্যাবরেটরি টেস্ট ফি বাবত প্রাপ্ত চেক ও পে-অর্ডার এর হিসাব সংরক্ষণ করেন নি অর্থাৎ তিনি কতটা চেক ও পে-অর্ডার ফেলেন তার বাবত কোনো আলাদা রেজিষ্টার মেইনটেন করেননি।

২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা ও উত্তোলনকৃত মোট ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ ৩৫ টাকা সরকারি খাতে জমা না দিয়ে একাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করেন। সরকারি টাকা আত্মসাতের এ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তিনি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর চালান মূলে ঐ টাকা সরকারি খাতে জমা করেন। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ক্যাশ বই, বিল ভাউচার সংরক্ষণ করেন নি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, আসামি হারুন-অর-রশিদ অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখায় বর্ণিত একাউন্ট খুলে তাতে উল্লেখিত সময়ে ল্যাবরেটরি টেস্ট ফি জমা বাবত মোট ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ ৩৫ টাকা ১৩ পয়সা সরকারি খাতে জমা না করে নিজ স্বার্থে উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে আত্মসাৎকৃত টাকা চালান মূলে সরকারি খাতে জমা করে আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই অভিযোগে ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গির আলম বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দু’জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করে। আদালত তাঁর আদেশে বলেন, উভয় দণ্ড একত্রে চলবে।

অপর আসামি প্রাক্তন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মৃত মো: মাজহারুল আলম জীবিত থাকাকালে ওই হিসাবটি সংরক্ষণ করতেন। ল্যাবরেটরি টেস্টের টাকা তিনিই জমা করতেন। তিনি ল্যাবরেটরি টেস্ট ফি বাবত প্রাপ্ত অর্থ খোলার হিসাব রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ না করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, কুমিল্লা শাখার চেক নং- ২২৭০৮২৭ এর চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করে তার নিজের সঞ্চয়ী হিসাব নং বেসিক ব্যাংক কুমিল্লা সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১০৪ এ জমা করে সরকারি অর্থ পারস্পরিক যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন। বিজ্ঞ আদালত ২নং আসামি মো: মাজহারুল আলম কর্তৃক জমাকৃত বেসিক ব্যাংক লিমিটেড, কুমিল্লা এর সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৭১৪০১০০১০৪১৩ এর ১০ লাখ টাকা সরকারি টাকা হিসাবে প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত টাকা সুদসহ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পি.পি এডভোকেট মো: আসফিকুর রহমান ও আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মো: আব্দুল আলীম।