চট্টগ্রামে টানা ও ভারী বর্ষণে ফের জলাবদ্ধতা

রনজিত কুমার শীল, চট্টগ্রাম:  মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ও ভারি বর্ষণের কারণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রয়েছে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা। টানা বর্ষণের কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। পানিতে থই থই করছে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল। মূল সড়ক পানির নিচে। বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, অলি-গলি, স্কুল-কলেজেও পানি উঠে গেছে। বৃষ্টির কারণে বন্দরের বহিনোঙ্গরে মালামাল খালাস বন্ধ রয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত নগরী ও আশেপাশের কয়েকটি উপজেলায় আগের রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ চলে। এর আগে শনিবার রাতেও বৃষ্টি হয়। এতে নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড সড়ক, বড়পোল মোড়, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পোর্ট কলোনির কয়েকটি সড়ক, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট মোড়, বহদ্দার বাড়ি সড়ক, হালিশহর, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোমরসম আবার কোথাও কোথাও বুক ছুঁই ছুঁই পানি।

জলাবদ্ধতার কারণে পথচারী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা নৌকা ও রিক্সা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নি¤œাঞ্চলে নিচতলার বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার বাসা বাড়ির লোকজন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

এছাড়া নগরীর জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, মেহেদীবাগ, বাকলিয়া এলাকায় সড়কেও পানি জমে যায়। আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীর কেন্দ্রে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অপরদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সে হিসেবে রোববার সকাল থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীতে ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর কয়েকটি সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে যানবাহনের সঙ্কট দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নগরবাসী।

নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র শীল জানান, সকালে ঘর থেকে বের হয়ে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (ফার্মেসী) যাচ্ছিলাম। ঘরের পাশেই মূল সড়কে দেখলাম হাটু পরিমাণ পানি। ফার্মেসীতে যাওয়ার জন্য ৫০ টাকা দিয়ে একটি রিক্সা ভাড়া নিলাম। রিক্সাটি বেপারীপাড়া পর্যন্ত যেতে না যেতে বুক ছুঁই পানি। পরে বাসায় ফিরে আসলাম।

একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী ভর্ষণে ছোটপুল, বেপারীপাড়া ও সিডিএ আবাসিক এলাকায় কোথাও কোমরসম আবার কোথাও বুক ছুঁই পানি। নিচতলার বাসা বাড়িও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন নালার পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য মহেশখালের উপর দেওয়া বাঁধকে দায়ী করেন। মহেশখালের ওই পথ দিয়ে এসব এলাকার পানি কর্ণফুলী নদী হয়ে সাগরে যায়।

নগরবাসীর অভিযোগের মুখে গত ১৩ জুন বাঁধটি অপসারণ কাজ শুরু করে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাঁধ অপসারণের পর এখন জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বার্তায় বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।