মেসির বিয়ের অপ্রকাশিত ঘটনা সমূহ

নিউজ ডেস্ক: ২৫ বছরের প্রেম : লিওনেল মেসির সঙ্গে পাঁচ বছর বয়সে পরিচয় অ্যান্তোনেল্লা রোকুজ্জোর সঙ্গে। মাধ্যম ছিলেন বাল্যবন্ধু লুকাস স্কাগলিয়া। বন্ধুর চাচাতো বোনের সঙ্গে ‘খেলার সাথী’র সম্পর্কটাই একসময় প্রণয়ে মোড় নেয়। রোকুজ্জোর সঙ্গে পরিচয়ের পর মেসি ১৩ বছর বয়সে স্পেনে চলে যান। কারণ তিনি বার্সেলোনায় খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু শর্ত ছিল যে, এ জন্য স্প্যানিশ ফুটবল কাবটিকে মেসির হরমোনজনিত চিকিৎসার খরচ জোগাতে হবে।

এর আগে মেসি অনেকবারই বলেছেন, তার প্রেমিকা ও সাবেক ফুটবল কাবকে পেছনে ফেলে তার স্পেনে চলে আসতে কতটা কষ্ট হয়েছিল। বার্সেলোনায় পাড়ি জমালেও কখনো রোকুজ্জোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি মেসির। যদিও প্রণয়ের ব্যাপারটা গোপন ছিল অনেক দিন। ৩০ বছর বয়সী মেসি ও ২৯ বছর বয়সী রোকুজ্জো দীর্ঘদিন ধরে এক ছাদের নিচেই ছিলেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে একটি সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই প্রথম গোমর ফাঁস করেন। এর পর থিয়াগো থেকে মাতেওর জন্ম।

সবকিছুই হয়েছে মহাধুমধামে। ২০১২ সালের ২ জুন ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেসির বল জার্সির নিচে নিয়ে থিয়াগোর আগামনীবার্তা দেওয়া সেই উদযাপন এখনো চোখে ভাসার কথা ফুটবলপ্রেমীদের। সেই বছরই এ জুটির ঘর আলো করে আসে প্রথম সন্তান থিয়াগো। ২০১৫ সালে জন্ম নেয় দ্বিতীয় সন্তান মাতেও। অ্যান্তোনেল্লা রোকুজ্জোর মতো জন্মশহর রোজারিওর প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অটুট। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাল্যসাথী’কে ঘরে তুলে নিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

যেখানে হলো বিয়ে : মেসির জন্মস্থান পানারা নদীর তীরে পোর্ট সিটি রোজারিওতে হলো মেসির বিয়ের অনুষ্ঠান। সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন এবং তার প্রথম কাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলেছেন। বিয়ের মূল ভেন্যু ছিল পাঁচতারকা হোটের রোজারিওর সিটি সেন্টার ক্যাসিনো কমপ্লেক্স। মূল ভেন্যুর বাইরে ছিল বড় পর্দা, যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে পান ভক্ত-সমর্থকরা।

বিয়ের পোশাক : অ্যান্তোনেল্লা রোকুজ্জোর পরনে ছিল স্প্যানিশ ডিজাইনার রোজা কারার ডিজাইনে তৈরি মারমেইড ডিজাইনের গাউন। স্প্যানিশ এ ডিজাইজার বিখ্যাত এভা লঙ্গোরিয়া ও সোফিয়া ভার্গারার পোশাকের জন্য। বিয়ের গাউন বার্সেলোনা থেকে প্রাইভেট জেটে উড়িয়ে আনেন দুই নিরাপত্তারক্ষী। মেসির পরনে ছিল সাদা শার্টের ওপর স্যুট-প্যান্ট। আমন্ত্রিত অতিথির সামনে পাত্র-পাত্রীর আসনে মেসি-রোকুজ্জোর সঙ্গে ছিল তাদের দুই সন্তান থিয়াগো (৪) ও মাতেও (১)।

শাশুড়ি বনাম বউ : মেসির বিয়ে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে মিডিয়ায় চাউর হয়ে যায়, সেলিয়া মার্টিনার সঙ্গে নাকি অ্যান্তোনেল্লা রোকুজ্জোর সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ছেলে বউকে নাকি দেখতেই পারেন না মেসির মা! তার নাম শুনলেই জ্বলে ওঠেন। এসব নিয়ে অনেকদিন ধরেই বেশ অশান্তিতে আছেন ফুটবল জাদুকর। পত্রিকাটি জানিয়েছিল, মেসির বিয়েতে তার মা উপস্থিত থাকলেও ভেতরে ভেতরে তিনি খুশি থাকবেন না।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময় থেকেই নাকি রোকুজ্জোর সঙ্গে মেসির মায়ের এই বিবাদ। সে সময় পত্রিকাটির এক সাংবাদিক মেসির মাকে প্রশ্ন করেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ছেলের খেলা দেখতে যাবেন না? রোকুজ্জোও তো যাচ্ছে? এ প্রশ্ন শুনেই নাকি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন মেসির মা! রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলেছিলেন, রোকুজ্জো-রোকুজ্জো-রোকুজ্জো কে? আরও জানা গেছে, স্পেনে মেসি যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়িতে তার মা ও ভাই কখনো যাননি। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময় রিওডি জেনিরোয় মেসি একটি বাড়ি ভাড়া করেন।

সেখানে রোকুজ্জোর জন্য আলাদা রুম থাকায় মেসির মা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি ওই বাড়িতে থাকবেন না। এর পর প্রত্যেক ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা থেকে মেসির মা খেলা দেখতে যেতেন। ম্যাচশেষে আবার ফিরে যেতেন। গেল কয়েক বছরে নানা কথা শোনা গেলেও বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে শোনা যায়, অতিথিদের থাকার জন্য যে হোটেল ঠিক করা হয়েছে, সেখানে দুটো আলাদা ফোরে থাকছেন মেসি ও রোকুজ্জোর পরিবার। অবস্থা এতটাই সঙ্গিন! তবে সব বানোয়াট কথার জবাব মিলল মেসির বিয়েতেই। মেসির পুরো পরিবারকেই দেখা গেল হাসিমুখে। নববধূর হাসিও বলে দিচ্ছিলÑ ওসব কানকথায় কান দেবেন না।

বিয়ের অতিথি ছিলেন যারা : অতিথির তালিকা, কারা উপস্থিত থাকবেন- সব কিছুর সিদ্ধান্ত নেন মেসির বাবা জর্জে মেসি। প্রথমে বিয়ে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ওয়েডিং প্ল্যানার বার্বারা দিয়াজ। যিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও মাকরির বিয়ে অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল মেসির বিয়েতে আসবেন ৬০০ জন। কিন্তু সেই অতিথি তালিকা ছেঁটে দাঁড়ায় ২৬০ জন। আবার মাঝপথেই বাদ দেওয়া হয় বার্বারাকে। ভেন্যুও বদলে যায়। হোটেল পুয়ের্তো নর্তো থেকে পাল্টে মেসির বিয়ের ভেন্যু হয় রোজারিওর সিটি সেন্টার।

নিমন্ত্রিত সবাইকে আবার নতুন করে বিয়ের কার্ড পাঠানো হয়। সময়ও পাল্টে যায়। জাঁকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ফুটবল স্টারসহ অন্যান্য সুপরিচিত নামিদামি ব্যক্তিরা। ছিলেন মেসির ছোটবেলার বন্ধুরাও। অতিথিদের বিনোদনের জন্য কোনো খামতি রাখেননি মেসি। ১২টি ব্যক্তিগত বিমানে তার সাবেক ও বর্তমান সতীর্থরা রোজারিওতে পৌঁছায়। রোজারিওর সিটি সেন্টারে ক্যাসিনো থেকে শুরু করে বোলিং অ্যালিও ছিল অতিথিদের জন্য। এ ছাড়া ঘাসের কোর্টে টেনিস খেলার ব্যবস্থা ছিল। অতিথির জন্য ছিল স্পা, সুইমিং পুল, একদল বিউটিশিয়ান ও হেয়ারড্রেসার। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা।

অতিথিদের তিনটি করে পোশাক আনার অনুরোধ করা হয়েছিল আগেই। ফটোসেশন সেরে ঘরোয়া পার্টিতে মাতেন তারকাদের দল। মেসির বিয়েতে আগত অতিথিদের জন্য প্রায় ২৫০টি ঘর বুক করা হয় সান্তা ফের সিটি সেন্টারে। হোটেলকর্মীদের সঙ্গে আবার গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিও করা হয়েছে। ছিলেন ৭০ জন হেয়ার স্টাইলিস্ট। বিয়েতে বার্সেলোনার মূল দলের ২১ ফুটবলারকেই নিমন্ত্রণ করেছিলেন মেসি। ছিলেন পুরনো সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজও। বার্সেলোনার পুরো ব্যাকরুম স্টাফও ছিলেন অতিথির তালিকায়। এর মধ্যে আছেন কিটম্যান, ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট, ম্যাসিউর। ছিলেন খেলোয়াড়দের যোগাযোগ কর্মকর্তা পেপে কোস্তাও। এ ছাড়া মেসি তার জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটায় ভোলেননি শৈশবের জানি দোস্ত পেশায় ওয়েটার দিয়েগো ভায়েহসকে।

জেরার্ড পিকেও নাও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। পিকের স্ত্রী ও কলম্বিয়ান পপস্টার শাকিরার সঙ্গে যে মেসির স্ত্রীর দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছু দিন ধরে! তবে সব সংশয় উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং গান গেয়েছেন শাকিরা। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর অনুষ্ঠানের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়া হয়েছিল বিশ্বের ১৫৫ সাংবাদিককে। অনুষ্ঠান কাভার করতে পারলেও অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার কোনো অনুমতি ছিল না তাদের। তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল বিশেষ একটি প্রেস এরিয়া। অনুষ্ঠানের সব জায়গায় যাওয়ার অনুমতি তাদেরও ছিল না। ফটোসেশনে নবদম্পতির ছবি তোলার সুযোগ পান আলোকচিত্রীরা। তবে নিষিদ্ধ ছিল মোবাইল ফোন, যাতে কোনো অতিথি অনুষ্ঠানের ছবি তুলে ইন্টারনেটে পোস্ট না করতে পারেন। হোটেলের ড্রাইভওয়ের শেষ থেকেই লাল কার্পেট অভ্যর্থনা ছিল অতিথিদের জন্য।

বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা জনপ্রিয় এসব তারকাকে দেখতে লোকজন বিমানবন্দর ও হোটেলের আশপাশেও ভিড় করেছিল। তাদের সামাল দিতে নিরাপত্তা সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

যারা ছিলেন না : মেসির বিয়েতে দাওয়াত পাননি সাম্প্রতিক সময়ে তার কোচ থাকা কেউই। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। এমনকি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও দাওয়াত না পাওয়াদের তালিকায় ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। কদিন আগে সাবেক হওয়া বার্সেলোনা কোচ লুই এনরিকেকে নিমন্ত্রণ করেননি মেসি। কোচের সহকারী, বার্সেলোনা বোর্ডের কোনো সদস্যও নেই মেসির নিমন্ত্রিত অতিথির তালিকায়। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি থাকতে পারবেন না বিয়েতে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ ফুটবলবিশ্বের অন্য কেউই ছিলেন না। ছিলেন না মেসির সাবেক সতীর্থরাও (জাভি ছাড়া)।

উপহারপর্ব : মেসির মতো এমন দামি তারকা বিয়েতে কী কী উপহার পাচ্ছেন? সঠিক উত্তর হচ্ছে, কিছুই না! গত বছর ৬ দশমিক ২ কোটি ইউরো কামাই করা মেসি কোনো উপহার চান না অতিথিদের কাছ থেকে। তবে যে কেউ চাইলে লিও মেসি ফাউন্ডেশনে অনুদান দিতে পারেন। এ ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করে। অতিথিদের কাছে থেকে উপহার না নিয়ে উল্টো অতিথিদেরই নিমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে দিয়েছিলেন উপহার। সেখানে মেসি দেন ‘স্পেশাল লিও ওয়াইন’।

স্ত্রীকে মেসির ‘বিয়ের উপহার’ : উপহারটা সবার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন, চমকে দেওয়ার মতো। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয় আর্জেন্টিনার গায়ক অ্যাবেল পিন্তোসের কণ্ঠে ‘সিন প্রিনসিপিও নি ফাইনাল’ এ গানটির মাধ্যমে। যে গানটি মেসির স্ত্রী অ্যান্তোনেল্লা রোকুজ্জোর ভীষণ পছন্দের। প্রিয়তমাকে না জানিয়ে এ গানের আয়োজন করেন মেসি। যেটা শুনে রীতিমতো চমকে যায় রোকুজ্জো।

যা খেলেন অতিথিরা : কদিন আগে আর্জেন্টিনার একটি টিভি চ্যানেল মেসির বিয়ের খাবার মেন্যু ফাঁস করেছে। যেখানে রুটি, সালাদ থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের খাবারের মেন্যুতে শুরুতেই ছিল সসেজ, প্যাটিস। মূল তালিকায় ছিল আর্জেন্টাইন বিখ্যাত গরুর রোস্ট, মাংসের স্টু, মুরগির চপ। মাংসে অরুচি যাদের তারা খান সুসি। আর্জেন্টাইন মিডিয়ার খবর, মেসি নাকি নিজেই ঠিক করে দিয়েছেন খাবারের মেন্যু। পাচকদের বলেছিলেন, স্থানীয় খাবারের আইটেম রাখার। যার মধ্যে রয়েছে ‘লোকরো স্ট্র’ ও ‘এম্পানাদা’ প্যাটিস। বাইরের অতিথিদের স্থানীয় খাবারের স্বাদ দিতেই মেসির এ আয়োজন।

ছিলেন লাতিন পপ : অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ছিল গান-বাজনার পর্বও। উরুগুইয়ান পপ ব্যান্ড রোম্বাই ও মারামা পরিবেশন করে সংগীত। ম্যানসিটির আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সের্জিয় আগুয়েরার স্ত্রী কারিনাও আলোকিত করেন অনুষ্ঠান। লাতিন পপের জমকালো অনুষ্ঠানে শাকিরা গান না গাইলে অপূর্ণতা থেকেই যেত। সেই আশাও পূরণ করেন পিকের বান্ধবী! বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয় আর্জেন্টিনার গায়ক অ্যাবেল পিন্তোসের কণ্ঠে ‘সিন প্রিনসিপিও নি ফাইনাল’ এ গানটির মাধ্যমে।

নিরাপত্তা : মেসির বিয়েতে নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে রোজারিও। প্রত্যেক অতিথিকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর আর্জেন্টাইন মিডিয়ার। অনাহূত কেউ যেন অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে যেতে না পারে, সে জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য বিয়ের সময়টায় পুরো এলাকা জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিটি সেন্টারের পাশের এলাকায় লস মোনোস নামক মাফিয়া সংগঠনের রাজত্ব। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ৪৫০ পুলিশ ও ইসরায়েলের একটি বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা দল। যে দলের প্রধান ছিলেন মোসাদের সাবেক এজেন্ট।