এসএমই নীতিমালায় সংশোধন আনল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক: ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি জারি করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) নীতিমালায় সংশোধনী এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ট্রেডিং খাতের মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের সংজ্ঞা ও সর্বোচ্চ ঋণসীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক সার্কুলারে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় স্বাক্ষরিত নতুন নীতিমালাটি দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মূলত সরকারের শিল্পনীতি-২০১৬তে প্রদত্ত শিল্প ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞার আলোকে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশোধিত এসএমই নীতিমালায় বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লাখ থেকে ১৫ কোটি টাকা হলে উত্পাদনের ক্ষেত্রে সে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। ব্যাংক এসব ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। উত্পাদনের ক্ষেত্রে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করবেন, সেসব প্রতিষ্ঠানেও ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

নীতিমালায় ‘কুটির শিল্প’ বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যভুক্ত সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে, যা পারিবারিক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ও সর্বোচ্চ জনবল ১৫-এর বেশি নয়। কুটির শিল্প খাতের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘মাইক্রো শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়াই স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৩০ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। মাইক্রো শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাইক্রো শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। সেবা খাতভুক্ত মাইক্রো শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে।

ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার বেশি ও অনধিক ৫০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত। তবে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান বা শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১ হাজার।

সেবা শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ২ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৫১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত। ব্যাংক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতভুক্ত মাঝারি শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি এবং সেবা খাতভুক্ত মাঝারি শিল্পের একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।

ট্রেডিং খাতের ‘মাইক্রো উদ্যোগ’ বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ টাকার নিচে কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন অথবা যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা। ট্রেডিং খাতের ‘ক্ষুদ্র উদ্যোগ’ বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন অথবা যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ১২ কোটি টাকার বেশি নয়। ট্রেডিং খাতের মাইক্রো উদ্যোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে।