ঈদ শেষে ফিরতি পথেও দুর্ভোগ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাস, সিএনজি-অটোরিক্সায় স্বেচ্ছাচারি অতিরিক্ত ভাড়া, ট্রেনের বগি ও আসন সংকেটের কারণে টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকজনের যোগসূত্রে স্থানীয় কালোবাজারিরা ট্রেনের টিকিটের সংকট তৈরি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুন থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টিকিট না পেয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদে উঠে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগ করছেন। অনেকেই আবার ট্রেনে বাদুরজুলা হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন। গত শুক্রবার, শনি ও রোববার গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে থেকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ ঈদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র স্টেশনে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রেলওয়ে ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে তিন রুটে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল সহ ৩০টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের টিকেট অধিকাংশ কালোবাজারিদের হাতে চলে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা কালোবাজারিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গত শুক্রবার ৫টা ৩০ মিনিটে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি গৌরীপুর জংশনে যাত্রাবিরতি করে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ট্রেনটিতে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে কোথাও তিল ধারণের স্থান নেই। কয়েকজন যাত্রী জানান, কাউন্টারে এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়নি। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে অতিরিক্ত দামে ঠিকই টিকিট মিলেছে। ট্রেনের যাত্রী ভবানীপুর গ্রামের রইছ উদ্দিন ও লামাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, কাউন্টারে টিকেট পাওয়া যায় না। বাহির থেকে ৭৫টাকার টিকেট ২৫০ টাকায় ক্রয় করতে হয়েছে।

গত শনিবার সকালে গৌরীপুর জংশনে খোজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারে ১৪৫ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০০শ টাকায়। পাশাপাশি কাউন্টার থেকেও হাওর এক্সপ্রেসের টিকিট অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। দারিয়াপুর গ্রামের শামীম মিয়া বলেন, গত শনিবার সকালে হাওর এক্সপ্রেসের ঢাকার ১৪৫ টাকার টিকিট কাউন্টার থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানানোর পর কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুকিং সহকারি আনিছ বলেন, একটি টিকিট ভুলক্রমে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালোবাজারিরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনেন। আবার কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে টিকেট সংগ্রহ করেন। আন্তনগর বাদে লোকাল ট্রেনের টিকেটে স্টেশন কতৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ করেছে যাত্রীরা। চট্রগ্রামগামী আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের (শোভন) ৩২০ টাকার টিকিট ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গৌরীপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, কালোবাজারে টিকিট বিক্রির বিষয় আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। তবে যাত্রীরা আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা সর্তক রয়েছি। কালোবাজারিদের প্রমাণ সহ ধরার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাষ্টার মির্জা মোহাম্মদ শামছুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।