পারস্য উপসাগরে সংকটের নেপথ্যে

ড. তারেক শামসুর রেহমান:  পারস্য উপসাগরীয় সংকটের নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। কাতারের সঙ্গে জিসিসিভুক্ত চারটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং কাতারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করার পর এখন জিসিসি বা গালফ সহযোগিতা সংস্থার ওই চারটি দেশের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ দিন। এই দাবিগুলো কাতারকে মানতে হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজাজিরা টিভি বন্ধ করা, ইরান তথা হামাস ও ইসলামিক ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ইত্যাদি।

এখন যে প্রশ্নটি অনেকেই করেন, তা হচ্ছে সৌদি-কাতার দ্বন্দ্বে লাভবান হচ্ছে কে? এর জবাব দেওয়ার আগে কয়েকটি তথ্য আমরা উল্লেখ করতে পারি। এক. একটি গণমাধ্যম আমাদের খবর দিয়েছে, ইরান-সৌদি সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর জুন মাসে ১৮টি ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান সৌদি আরবে মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেখানে পুরো আরববিশ্ব ইসরায়েলি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে, সেখানে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নেতার দাবিদার ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি মসজিদের (মসজিদ আল হারাম, মক্কা শরিফ ও মসজিদ আল নববী, মদিনা শরিফ) জিম্মাদার সৌদি রাজবংশ রক্ষায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক চিন্তার মাঝে ফেলে দেয়। দুই. যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাধর্মী একটি জার্নালের একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন আলোচনা চলছে এবং নীতিগতভাবে অনেক ক্ষেত্রে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে।

যেহেতু ইসরায়েল ও সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই মুহূর্তে প্রধান শত্রু হচ্ছে ইরান, সেহেতু ইসরায়েলের যেমনি প্রয়োজন রয়েছে সৌদি সাহায্যের, ঠিক তেমনি সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সম্ভাব্য ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম একটি নীতি হচ্ছে, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। গত মে মাসে ট্রাম্পের সৌদি আরব সফর এ লক্ষ্যেই রচিত হয়েছিল। ইসরায়েল সৌদি আকাশসীমানা তার বিমান সংস্থা ঊখঅখ-এর জন্য ব্যবহার করতে চায়। এ নিয়েও আলোচনা চলছে। সৌদি আরব ২০০২ সালে ইসরায়েলের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলÑ যদি ইসরায়েল অধিকৃত আরব এলাকা ফিরিয়ে দেয় এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করে, এর বিনিময়ে সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে। সৌদির এই প্রস্তাব আরব লিগও অনুমোদন করেছিল। তিন. সৌদি রাজপরিবারের এক সন্তান প্রিন্স খালিদ বিন ফারহান আল সৌদের একটি বক্তব্য ছাপা হয়েছে (মিডল ইস্ট মনিটর)। ওই বক্তব্যে প্রিন্স ফারহান দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমানকে রাজা হিসেবে দেখতে চায়। প্রিন্স ফারহানের সঙ্গে অবশ্য বর্তমানে সৌদি রাজপরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। চার. ইসরায়েল ইনন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

কট্টরপন্থি ওদেদ ১৯৮২ সালে বিশ্ব ইহুদি কংগ্রেসে ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বৃহত্তর ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনায় বৃহত্তর ইসরায়েলি রাষ্ট্রটি হবে একদিকে নীলনদ অন্যদিকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই সঙ্গে বর্তমানে এ অঞ্চলে যেসব রাষ্ট্র রয়েছে, তা ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিভিত্তিক ও নৃতাত্ত্বিকভিত্তিক একাধিক রাষ্ট্র হবে। এই রাষ্ট্রগুলো তাদের স্বার্থে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। বর্তমান পরিস্থিতি কি সেদিকেই যাচ্ছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মে মাসে রিয়াদে আরব-আমেরিকান সম্মেলনে যোগদান, সৌদি আরবের সঙ্গে ১১ হাজার ডলারের অস্ত্রচুক্তি স্বাক্ষর, তার ইসরায়েল সফর, কাতারের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের সম্পর্কচ্ছেদ, কায়রোতে গোপনে সিসি-নেতানিয়াহু সাক্ষাৎ মূলত সবই একটি সূত্রে গাঁথা।

কাতারে ক্ষমতার পরিবর্তন ও কাতারের বিশাল গ্যাস রিজার্ভের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্বের তৃতীয় বড় গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে কাতারে (রাশিয়া ও ইরানের পর)। কাতারের ডলফিন পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস আরব আমিরাতে সরবরাহ করা হয়। ওই গ্যাস দিয়ে আরব আমিরাত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। আরব আমিরাত চায় কম মূল্যে এই গ্যাস। ইউরোপেও যায় কাতারের গ্যাস। কাতার তার গ্যাস দিয়ে এলএনজি তৈরি করে, তা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে কাতার থেকে এলএনজি কেনার জন্য একটি চুক্তি করেছিল। এখন সমুদ্রেও কাতারি গ্যাস রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই কাতারের অর্থনীতিতে ধস নামানো।

মাত্র ২৬ লাখ লোকের দেশ এই কাতার, যে লোকসংখ্যার একটা বড় অংশ আবার পাক-ভারত-বাংলাদেশ থেকে যাওয়া। আদি কাতারিরা মূলত সরকারি কাজ করেন। আদা দক্ষ জনগোষ্ঠী কাজ করে কনস্ট্রাকশন সেক্টরে। যার শতকরা একশ ভাগ উপমহাদেশের মানুষ। অথচ কাতারের জিডিপির পরিমাণ ৩৫৩ দশমিক ১৪৩ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯৪ ডলার, যা কিনা সৌদি আরবের চেয়ে বেশি (৫৫ হাজার ২২৯ ডলার)। এই সংকটের পেছনে কাতারের জ্বালানিসম্পদ এবং কাতারের বিশাল অর্থনীতি একটা ফ্যাক্টর। বর্তমান সংকটকে কেন্দ্র করে কাতারের ওপর ‘চাপ’ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ (বিশেষ করে ইসরায়েলি স্বার্থ) আদায় করার একটি ‘উদ্যোগ’ আমরা আগামীতে লক্ষ করব।

যুক্তরাষ্ট্র কাতারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে এবং জাতিসংঘকেও বাধ্য করতে পারে এ ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এর পেছনে কলকাঠি নাড়াচ্ছে ইসরায়েল। এক তথ্যে দেখা গেছে, মার্কিন কংগ্রেসে কাতারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা সম্পর্কিত একটি বিল জমা দেওয়া হয়েছে। বিলটি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস’-এর কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেসপনসিভ পলিটিক্স’ (ওয়াশিংটন)-এর তথ্য অনুযায়ী যেসব কংগ্রেস সদস্য এই বিল উত্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তারা ২০১৬ সালের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের সময় প্রত্যেকে ইসরায়েলি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ লাখ ৯৭৯৬ ডলার ‘সাহায্য’ পেয়েছেন।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসি’র পক্ষ থেকেও ওইসব কংগ্রেসম্যানকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। ক্রিড নিউটন ‘ইনফরমেশন ক্লিয়ারিং হাউসে’ যে প্রবন্ধটি লেখেন (জুন ১২, ২০১৭) তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের ফরেন রিলেশন্স কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান এড রয়েস ও এলিয়ট এঙ্গেল এক একজন প্রায় ২ লাখ বা তার ওপরে অর্থ ‘গ্রহণ’ করেছেন। এর অর্থ পরিষ্কার একটি সৌদি-ইসরায়েল-আরব আমিরাত লবি চাচ্ছে কাতারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হোক। তারা এ জন্য ওয়াশিংটনে ‘লবিজ ফার্ম’ও নিয়োগ করেছে। কাতারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয়েছে অর্থাৎ কাতার সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করেছে। তার পেছনে সত্যতা কতটুকু, এটা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

কাতার ইসলামিক ব্রাদারহুড, হামাস কিংবা হিজবুল্লাহ গ্রুপকে সমর্থন করছে এর পেছনে সত্যতা আছে। এখানে সমস্যাটা মূলত ইসলামিক বিশ্বের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, সৌদি আরব না কাতারের হাতে সমস্যাটা মূলত সেখান থেকেই শুরু। সাম্প্রতিককালে মুসলিম বিশ্বের যে সংকট, সেই সংকটের সমাধানের ব্যাপারে সৌদি আরব কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল এবং তাদের নেতৃত্বে একটি সরকারও গঠিত হয়েছিল, যা ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। গাজা নিয়ন্ত্রণ করে হামাস। আর ইসরায়েলি ট্যাংক এবং বিমান যখন গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, তখন এগিয়ে এসেছিল কাতার। এমনকি সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া সংকটেও কোনো সৌদি ভূমিকা ছিল না।

আফ্রিকার মুসলমানপ্রধান দেশগুলোর দরিদ্রতা (সুদান, দারফুর, সাদ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া) দূরীকরণে সৌদি আরবের কোনো আর্থিক সহযোগিতা নেই। অথচ সৌদি আরবের অর্থনীতি ১ দশমিক ৮০৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। এই অর্থ সৌদি রাজপরিবারের শত শত প্রিন্স ও প্রিন্সেস নিজেদের ব্যক্তিগত বিলাস ও কাজে ব্যবহার করেন। অন্যদিকে কাতারে তরুণ আমিরের নিজস্ব একটি চিন্তাভাবনা আছে। ২০১২ সালে কাতার প্রায় ১০০টি দেশে যার মধ্যে মুসলমানপ্রধান দেশ বেশি ৫২৪ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, যাতে করে এই গরিব দেশগুলো এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে।

কাতার একটি ছোট্ট দেশ হওয়া সত্ত্বেও (আয়তন ১১ হাজার ৫৮৬ বর্গকিলোমিটার) সুদান-সাদ দ্বন্দ্বে, সুদানের দারফুর সংকটে জিবুতি-ইরিত্রিয়া দ্বন্দ্বে এবং আফগানিস্তানের তালেবান সংকটে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, যা সৌদি আরবের নীতিনির্ধারক, বিশেষ করে যুবরাজ প্রিন্স সুলতানের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং এতে করে মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নের মুখে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সংকটের গভীরতা বেড়েছিল। এখানে বলা ভালো, সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের দ্বন্দ্ব এই প্রথম নয়। এর আগেও ১৯৯২, ২০০২ ও ২০১৪ সালে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গিয়েছিল এবং দোহা থেকে তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন।

সৌদি আরব-কাতার দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, এই মুহূর্তে বলা যাবে না। মনে রাখতে হবে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে প্রায় ১১ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক সেখানে ৫০০০ সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো কোনো মার্কিন সাময়িকীতে কাতারে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর আভাস দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা (?) নিয়ে কাতারের শাসনকর্তা আমির তামিম বিন হামাদ আল থানিকে উৎখাত করতে পারে। তবে বিষয়টি তত সহজ নয়। তুরস্কের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি আমিরকে নিরাপত্তা দিতে পারে। তবে আল থানি পরিবার যারা ১৯৭২ সাল থেকে কাতার শাসন করে আসছে, এই পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়।

১৯৯৫ সালের জুন মাসে বর্তমান শাসক তামিম বিন হামাদ তার বাবা আমির খালিফকে ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র’-এর মাধ্যমে উৎখাত করে ক্ষমতা নিজের হাতে করায়ত্ত করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি সেদিকে যাচ্ছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বিবাদ ও সংঘাত সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুয়েতি আমিরের দূতিয়ালিও ব্যর্থ হয়েছে। কোনো ফল তাতে পাওয়া যায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাতারের আমিরের টেলিফোন আলাপের পর ইরানি প্রেসিডেন্ট রুহানি জানিয়েছেন, তার দেশ কাতারের পাশে থাকবে। ফলে পরিস্থিতি জুলাই মাসে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এটা তো ঠিক, এই সংকটের মধ্য দিয়ে বড় লাভ হলো ইসরায়েলের।

আরববিশ্বের কোনো দেশকে নিয়ে ইসরায়েলের ভয় নেই। তার একমাত্র ভয় ইরানকে নিয়ে। কেননা ইরানের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি রয়েছে এবং যেটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সমঝোতা ভেঙে পড়বে, এখন সেটাই হতে যাচ্ছে। কোনো আরব বা মুসলিম দেশের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি থাকুক, এটা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের কাম্য নয়। তাই ইরানের সঙ্গে আরববিশ্বের বিবাদ লাগিয়ে দিয়ে ইরানবিরোধী একটি ফ্রন্ট গড়ে তুলতে চায় ইসরায়েল এবং তাতে সে সফলও হয়েছে। বর্তমান সৌদি-কাতার দ্বন্দ্বের একটি দিক হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থান। এই সুযোগে ইসরায়েল আরববিশ্বকে তার পতাকাতলে নিয়ে আসবে।

আরববিশ্বকে বাধ্য করবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে। এই সংকটে ইসরায়েলের আরেকটি লাভ হলো। মিসরের সানাফি দ্বীপটি এখন দিতে হবে সৌদি আরবকে। এতে করে আকাবা উপসাগরকে মিসরের আঞ্চলিক জলের উৎস থেকে আন্তর্জাতিক পানির উৎসে পরিণত হবে, যা ইসরায়েলি প্রকল্পে পানি সরবরাহ করতে পারবে। তাই অঙ্কের হিসাবটা যদি মেলানো যায় তাহলে দেখা যাবে সৌদি-কাতার সংকটের নেপথ্যে ছিল ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসন। সংকট সৃষ্টি করে ইসরায়েল সুবিধা নিতে চায়। তবে ইরান ও তুরস্কের বলিষ্ঠ ভূমিকা পরিস্থিতিকে কোনদিকে নিয়ে যায় সেটাই দেখার বিষয়। এ সংকট থেকে যে আরববিশ্ব আদৌ লাভবান হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

য় ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক