বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

নিউজ ডেস্ক:  সৌরভে গৌরবে প্রতিষ্ঠার ৯৬ বছর পার করল প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার ক্যাম্পাসজুড়ে নানা আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের মল চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ওই সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষরা নিজেদের হলের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে অনুষ্ঠান শুরু করেন।

‘উদ্ভাবন ও উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাদের আজীবন স্বপ্ন ছিল একটি সত্যনিষ্ঠ জাতি গঠন করার। যেখানে কোনো বৈষম্য-ভেদাভেদ থাকবে না। আর তা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি আরও বলেন, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গঠন বর্তমান সময়ের একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে।

উপাচার্য বলেন, শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন শিক্ষা ও জ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আর সেই শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে জাতির প্রয়োজনের মুহূর্তে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ভূমিকা পালন করেছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। উপাচার্য ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্মরণ করেন। এ ছাড়াও তিনি জঙ্গিবাদের কারণে গুলশানের হলি আর্টিসানসহ অন্যান্য স্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মল চত্বর থেকে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য মোড় ঘুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনসহ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগে সকাল ৯টা থেকেই আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের নেতৃত্বে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মল চত্বরে হাজির হতে থাকেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গৌরবের দিনের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও। তারা ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী এবং কার্জন হলে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্ভাবিত চিকিৎসা প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও গবেষণা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলগুলো দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি পালন করে।