তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে

নিউজ ডেস্ক:  উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় চরগ্রামগুলোতে পানি উঠেছে।

শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৪০ মিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ এই প্রথম বিপদসীমা অতিক্রম করল।

এদিকে, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে মার্জিনাল ডাইক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর।

এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া এলাকায় মার্জিনাল ডাইকটির প্রায় ৩০ ফুট ভেঙে গেছে। তা ছাড়া ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার বেশ কিছু বাড়িঘর ও সাউদপাড়া ইসলামিয়া বহুমুখী আলিম মাদ্রাসা।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু জানান, তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত নিচু চরগুলোতে পানি উঠে পড়েছে। এর মধ্যে পাইকান এলকায় কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে। সকাল ৬টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা ৫ সেন্টিমিটার কমে এসেছে। তবে পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।