২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পাস

নিউজ ডেস্ক: ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধরীর সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৫৫ ঘণ্টা আলোচনা করেন। আগামী ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে।

গত ১ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

এটি হচ্ছে দেশের ৪৬তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম ও অর্থমন্ত্রী মুহিতের একাদশ বাজেট। একইসঙ্গে এটি আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের চতুর্থ ও মুহিতের টানা নবম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা নয়টি বাজেট দেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশে এই প্রথম। এরশাদ সরকারের আমলে দু’বার বাজেট দেন মুহিত।

জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্য দিয়ে আজ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়।

বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এসব মঞ্জুরি দাবি সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। প্রধান বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ৩৫২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৫টি দাবিতে আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৭ পাসের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রকৃত আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় নেমে আসে।

আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এনবিআর রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগামী অর্থবছরে রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশন, কর অব্যাহতি হ্রাস, কর প্রশাসনের বিস্তৃতি, করের আওতা ও ভিত্তি সম্প্রসারণ ইত্যাদি চলমান সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তদুপরি, আগামী ১ জুলাই ২০১৭ থেকে আমাদের ভ্যাট আইন, ২০১২ পুরোপুরি কার্যকর হবে। ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতা আনবে।

এ প্রেক্ষিতে আমরা আগামী অর্থবছরে মোট ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা (জিডিপির ১৩ শতাংশ) রাজস্ব সংগ্রহের প্রাক্কলন করেছি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা (জিডিপির ১১.২ শতাংশ)। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এনবিআর বহিভূর্ত কর-রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৪ শতাংশ)।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফি/রেটসমূহ বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুনঃনির্ধারণের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি তার সুবাদে এবং পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রেক্ষাপটে প্রাক্কলিত এ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা (জিডিপির ১৮ শতাংশ)। অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা (জিডিপির ১০.৮ শতাংশ) এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা (জিডিপির ৬.৯ শতাংশ)। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের বরাদ্দ ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট আকার দাঁড়াবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা (জিডিপির ৭.৪ শতাংশ)।