শোলাকিয়ায় লক্ষাধিক মুসল্লির স্বস্তিতে নামাজ আদায়

নিউজ ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভয়কে জয় করে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ মাঠে লক্ষাধিক মুসল্লির আগমন ঘটে। গত বছরের ৭ জুলাই ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের কাছে পুলিশ সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে পুলিশের দুই সদস্য, এক নারী, সন্ত্রাসীসহ চারজন নিহত হন।

শোলাকিয়ায় সকাল থেকে দলে দলে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। এবার অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের ১৯০তম জামাত। সকাল ১০টায় জামাত শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের এই জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং জেলা পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য। মাঠের ভেতর ও বাইরে ছিল অনেক সিসি ক্যামেরা। আটটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে আগতদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় আট প্লাটুন বিজিবি ও ২০ প্লাটুন এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। মাঠের ভেতর-বাইরে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তায় ছিল বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক দল। নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে মুঠোফোন, ছাতা বা কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু পাতলা জায়নামাজ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

শোলাকিয়া মাঠের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণে তিনটি, পূর্বে তিনটি এবং উত্তর পাশে একটি প্রবেশপথ খোলা রাখা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রবেশপথে আর্চওয়ে বসানো হয়। একটি পথ গাড়ি প্রবেশের জন্য রাখা হয়েছিল। মুসল্লিদের যাতায়াতে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নামাজ শেষে কুমিল্লা থেকে আসা আবদুল মোতালিব (৬৫) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা মো. আজহার মিয়া (৬০) বলেন, নামাজ আদায়ে তাঁরা এক দিন আগেই এসেছিলেন। মাঠের পাশে তাঁরা রাত যাপন করেন। শান্তিতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে তাঁরা এ মাঠে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। গতবার হামলার ঘটনা ঘটায় পরিবারের সদস্যরা এবার তাঁদের আসতে নিষেধ করেছিলেন। সে নিষেধাজ্ঞা তাঁরা আমলে নেননি। 

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গত ঈদের অপ্রত্যাশিত হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মাঠে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এদিকে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা ঘরে ফেরায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনোয়ার হোসেন খান।

মসনদ-ই-আলা শাখার ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্ব পাশে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, এই মাঠে প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি¬অংশ নেন। এ কারণে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। পরে উচ্চারণ পরিবর্তন হতে হতে শোলাকিয়া মাঠ নামে পরিচিত হয়।