রাজ পরিবারের কেউ রাজা-রানি হতে চায় না

নিউজ ডেস্ক:  ব্রিটিশ রাজপরিবারের কেউ রাজা বা রানি হতে চায় না। রাজপরিবারের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন শুধু জনগণের বৃহত্তর কল্যাণের কথা ভেবেই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রিন্স হ্যারি এ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের সময় আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করব।

প্রিন্স হ্যারিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজপরিবারের কেউ কি আছে যে রাজা বা রানি হতে চায়? জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আধুনিকীকরণে তিনি কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টা অনেক জটিল। কৌশলগতভাবে ভারসাম্য বজায় রাখাটা আসলেই কষ্টকর। রাজপরিবারের সদস্যরা সাধারণ মানুষ ও বিশ্বাবাসীর সামনে নিজেদের হালকা দেখাতে চায় না। তবে প্রিন্সেস ডায়ানা যে তার দুই ছেলে হ্যারি ও উইলিয়ামকে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সেটার প্রশংসা করেন প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেন, দুই ভাই সাধারণ জীবন যাপন করতেন যা জানলে লোকে অবাক হবে। এখনো আমি তেমনটাই করার চেষ্টা করি। তিনি ম্যাগাজিনটিকে বলেন, আমি নিজেই নিজের কেনাকাটা করি। যদিও মাঝে মধ্যে একটু চিন্তাও হয় এই ভেবে যে, কেউ তার মোবাইলে আমার ছবি তুলে ফেলল কি না। তবে আমি তুলনামূলক সাধারণ জীবন-যাপন করছি। আমার সন্তান হলে তাদেরও তেমনটা করতে উদ্বুদ্ধ করব। এমনকি আমি যদি রাজাও হই, নিজের কেনাকাটা নিজেই করব।

সাক্ষাত্কারে মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের বিষয়েও কথা বলেছেন প্রিন্স হ্যারি। তার মতে, মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর শেষযাত্রার অনুষ্ঠানে কফিনের পেছনে সন্তানদের হেঁটে যাওয়ার বিষয়টি একদমই সঠিক ছিল না। প্রিন্স হ্যারি বলেন, ১২ বছরের শিশুকে এমনটা করতে বলা মোটেও ঠিক কিছু নয়।

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্রিন্সেস ডায়ানা এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে যোগ দিয়েছিলেন রাজপরিবারের সকল সদস্য। প্রিন্স হ্যারি তার বাবা, দাদা, ১৫ বছর বয়সী ভাই প্রিন্স উইলিয়াম ও তার চাচাদের সঙ্গে লন্ডনের রাস্তা ধরে কফিনের পেছনে পেছনে হেঁটেছিলেন। সাক্ষাত্কারে প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, মায়ের মৃত্যুর শোক কাটাতে তাকে কাউন্সিলিংও নিতে হয়েছিল। আমার মা মাত্র মারা গেছেন আর তার কফিনের পিছনে পিছনে আমাকে দীর্ঘসময় ধরে হাঁটতে হলো! আমার আশপাশে হাজার হাজার মানুষ। আমার মনে হয় না কোনো শিশুকে কোনো ধরনের পরিস্থিতিতেই এমন কিছু করতে বলা উচিত।

রাজপরিবার সংক্রান্ত বিবিসির সংবাদদাতা পিটার হান্টের মতে প্রিন্স হ্যারির এই সাক্ষাত্কারটি অনেকের মনেই সমবেদনা জাগাবে যে, একজন প্রিন্স তার মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অন্যদিকে রাজপরিবারের একজন সদস্য বলছেন যে, রানির উত্তরাধিকারীদের বিশেষ সুযোগসুবিধা নিতে হয়, তারা না চাইলেও সেটি নিতে হয়—এ বিষয়টিও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগাবে। এ ছাড়া প্রিন্স হ্যারি তার দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে একবারও তার বাবার প্রসঙ্গ আনেনি—এটাও অনেকের কাছে ভাবনার বিষয় হবে।