চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পাড়ি দিতেই লাগছে ৬ ঘণ্টা

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। এই দীর্ঘপথ জুড়েই গাড়ি চলছে থেমে থেমে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষদের।

শনিবার সকালে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুর ও গাজীপুর জেলার চন্দ্রা পর্যন্ত এই ৭০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন। মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া, জামুর্কি, পাকুল্যা, শুভুল্লা, ইচাইল, গোড়াইল নয়াপাড়া, মির্জাপুর বাইপাস, বাওয়ার কুমারজানি, দেওহাটা, ধেরুয়া, সোহাগপাড়া, গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ, কালিয়াকৈর চন্দ্রা ও বোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র। এই যানজট এখন কালিয়কৈরের চন্দ্রা-জয়দেবপুর চৌরাস্তা মহাসড়ক ও চন্দ্রা থেকে নবীনগর-সাভার রোড ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া বাইপাইল-আশুলিয়া ও উত্তরা পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন ছাড়াও টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর এবং কুষ্টিয়া-সাতক্ষীরা ও খুলনা রোডের মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহনও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপের কারণে এ মহাসড়কে যানজট হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজ, কয়েকটি ফ্লাইওভারের কাজ, নানা দুর্ঘটনা এবং গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় যানজটের অন্যতম কারণ। যানজট নিরসন করার জন্য হা্ইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ, জেলা ও থানা পুলিশ, র্যাব , আনসার, জেলা প্রশাসন ও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন কাজ করে যাচ্ছে।

মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট নিরসন করার জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। নবীনগর ও চন্দ্রা এলাকায় ওয়াচ টাউয়ার স্থাপন করা হয়েছে।চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ২৫-৩০টি পুলিশের তাবু (পুলিশ বক্র),সারে আট শতাধিক পুলিশ মোতায়েন,আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ান,হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ মহাসড়কের দুই পাশে কাজ করছে। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের সমন্ময়ে ৪৫ টি মোবাইল ট্রিম,চারটি স্থানে ওয়াচ টাওয়ার,সিসি ক্যামেরা,আইপি ক্যামেরা,নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নের্তৃত্বে মোবাইল পার্টি এবং র্যাব সদস্যরা দিন-রাত মহাসড়কে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্ত অতিরিক্ত যানবাহন চাপের কারণে যানজটে স্থবির হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে,ঈদের পরের দিন পর্যন্ত এই মহাসড়কে যানজট থাকতে পারে বলে আশংকা করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।