ঈদের খাবারে পরিবর্তন আনা যায়

নিউজ ডেস্ক: ঈদ উৎসবে বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি ও তেল-মসলাযুক্ত গুরুপাক খাবার রান্নার রীতি চালু আছে। অতিথি আপ্যায়নেও উচ্চমাত্রায় ক্যালরিযুক্ত সব খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। এতে বয়স্ক লোকজনের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিপাকে পড়নে। যাঁদের হজমে সমস্যা হয় এবং যাঁরা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরের ওজন কমাতে চাইছেন, এ সময়টা তাঁদের অনিয়ম হয়। কারণ, প্রতি বাড়িতে গিয়ে কিছু না কিছু তো মুখে দিতেই হয়। তা ছাড়া অনেকে এক মাস রোজা পালনের পর হঠাৎ এসব ভারী খাবার খেয়ে অসুস্থও হয়ে পড়তে পারেন।

তাই ঈদের খাবারের তালিকায় সব বয়সের ও সবার উপযোগী মানুষের খাবার থাকা উচিত। যাঁরা মিষ্টি ও ঘি-তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন, তাঁদের কথাও মাথায় রাখুন। পোলাও-রোস্ট ইত্যাদি খাবার ঘির পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেলেই রান্না করা যায়। ঘ্রাণের জন্য শেষ মুহূর্তে একটুখানি ঘি ছড়িয়ে দিতে পারেন। ফ্রায়েড রাইস বা পোলাও চালের ভাতও অনেকে খুশি হয়ে খাবেন। ব্যতিক্রমী খাবার হিসেবে চালের রুটি, সেঁকা পরোটা, নানরুটির সঙ্গে তন্দুরি চিকেন, মাছের কোর্মা, শিক কাবাব নতুনত্ব আনতে পারে। এগুলো অত বেশি তেল-চর্বিযুক্ত নয়। নানা রকমের সবজি দিয়ে ‘বিফ অনিয়ন’ বা ‘চিকেন ভেজিটেবল’ বেশ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। লাল মাংস (গরু ও খাসি) এড়াতে ভাপা ইলিশ বা কোরাল, স্মোকড ফিশ, ফিশ রোল করা যায়।

ঈদের দিন গুরুপাকই খাওয়া হয় বেশি, সবজি বা ফলমূল সাধারণত খাদ্যতালিকার বাইরে থাকে। ফলে পেটে গ্যাস সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। ফলের চাটনি, নানা ধরনের সালাদ এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন। নানা ধরনের সবজি দিয়ে রায়তাও করা যায়। শেষ পাতে টক দইয়ের রায়তা রাখলে হজমে সুবিধা।

কোমল পানীয়র বদলে এই গরমে ফলের রস, টক দইয়ের লাচ্ছি ইত্যাদি পানীয় দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করতে পারেন। এখন রসাল ফলের মৌসুম। স্রেফ ফল কেটে দিয়েও আপ্যায়ন করা যায়।

এবার দুই ধরনের ঈদের খাবারের তুলনা করে দেখা যাক। ঈদের আপ্যায়নে আপনি এক বাটি দুধ-সেমাই খেলে ২২০ ক্যালরি পরিমাণ খাবেন, ঘিয়ে ভাজা জর্দা সেমাইয়ে আরও বেশি। সে জায়গায় আপনি যদি এক বাটি ফলের সালাদ খান, পাবেন মাত্র ১০৮ ক্যালরির মতো। ওদিকে একটা বুকের মাংসের রোস্টে পাবেন ২৮০ ক্যালরি। সে জায়গায় বুকের মাংসের চিকেন তন্দুরিতে ক্যালরি কম: ১৮০ ক্যালরির মতো। কাজেই রান্নার আইটেমে ও ধরনে সামান্য পরিবর্তন এনেই আপনি ঈদের খাবারটাকেও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে পারেন।