ক্যারিয়ার্সহাব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক উদ্দ্যোক্তা এম. নাঈম হোসেন

বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যারিয়ার্সহাব বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্হা ক্যারিয়ার্স ক্লাব অস্ট্রেলিয়া এর একটি অঙ্গ সংগঠন। ক্যারিয়ার্স ক্লাব এমন একটি সংগঠন যা মূলত প্যাশন, প্রতিশ্রুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং বিশ্বাস এই ৪ টি মূলমন্ত্র এর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটি ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে।

আন্তর্জাতিক উদ্দ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম নাঈম হোসেন এর হাত ধরে ক্যারিয়ার্সহাব বাংলাদেশে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে। এম.নাঈম হোসেন একাধারে ইউনিটাস গ্রুপ অব কোম্পানি এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ঢাকা ইয়ুথ এলায়েন্স ও নর্থ সাউথ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর এর প্রেসিডেন্ট। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকানিউজ২৪ এর ন্যাশনাল ও ফিচার ডেস্ক ইনচার্জ সিনিয়র সাব- এডিটর মো.জুয়েল আহমেদ। আজকের এ প্রতিবেদনটি মূলত ক্যারিয়ার্সহাবকে নিয়ে। ক্যারিয়ার্সহাব বাংলাদেশ এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও চেয়ারম্যান এম.নাঈম হোসেন ক্যারিয়ার্সহাব এর নানা বিষয় এখানে তুলে ধরেছেন।

কর্পোরেট লাইফে অনেকেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়, কেউ কেউ চিন্তা করে যে, কিভাবে বিভিন্ন সময়ে উদ্ভুত এই জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়, কোথায় গেলে ভালো পরামর্শ পাওয়া যাবে, কিভাবে নিজের ক্যারিয়ারকে আরো ভালো রুপে দেখতে পাবো, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে নিজেকে কিভাবে ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অবস্হানে দেখতে পাবো, কর্পোরেট পার্সনদের এই সব সমস্যার সমাধান ও গ্লোবাল একটি প্লাটফর্ম দেওয়াই ক্যারিয়ার্সহাব এর মূল উদ্দ্যেশ্য।

ক্যারিয়ার্সহাব মূলত ৩টি বিষয় নিয়ে কাজ করছে ।

১। ইন্টারন্যাশনাল হেড হান্টিং – ইন্টারন্যাশনাল হেড হান্টিং হলো এমন একটি ব্যবস্হা যার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনালি একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্পোরেট পার্সন একটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান থেকে অপর একটি ইন্টারন্যাশনাল বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মস্থলে স্হানান্তরিত হয়।ক্যারিয়ার্সহাব এ বিষয়ে কর্পোরেট পার্সনদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে যে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে কর্পোরেট পার্সনরা সহজেই একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী থেকে আরেকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে উন্নততর ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ পায়।

২।কনসালটেন্সি – ক্যারিয়ার্সহাব দুই ধরনের কনসালটেন্সি করে থাকে। প্রথমত, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে , দ্বিতীয়ত, গভর্নমেন্ট এর সাথে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যারা মনে করছে যে, নিজেদেরকে কীভাবে গ্লোবালি তুলে ধরা যায়, প্রোডাক্টস গুলোকে কীভাবে ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড করা যায়, কীভাবে কোম্পানির নীতি নির্ধারণিবিষয়গুলো সাজাতে হবে, কীভাবে বা কোন নীতি গ্রহণ করলে, প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়ে যাবে, এসকল বিষয়ে ক্যারিয়ার্সহাব বাংলাদেশ কনসালটেন্সি করে থাকে।

সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টে বর্তমান সময়ে ক্যারিয়ার্সহাব কনসালটেন্সি করছে। কীভাবে সরকারের নতুন নতুন প্রজেক্টগুলোকে সুন্দরভাবে দাড় করানো যায়, কীভাবে একটি প্রজেক্ট সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কীভাবে আসে, নতুন একটি প্রজেক্টকে কীভাবে সফল করা যায় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে।

৩। ইন্টারন্যাশনাল স্টাডি প্রোগ্রাম – দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দ্যেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে বা অনেকেই ইচ্ছে পোষণ করছে। নাৃকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। এক্ষেত্রে।অনেক শিক্ষার্থীই কোন বিশ্বস্ত মাধ্যম খুজে পায় না। অস্ট্রলিয়া যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ,প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা সহ তাদেরকে ক্যারিয়ার্সহাবের মাধ্যমে সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় যাতে তারা অস্ট্রেলিয়াতে ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।

ক্যারিয়ার্সহাবের আরো দুটি কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রথমত, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টার্রনশিপ প্রোগ্রাম। দ্বিতীয়ত, ফরেইন এমপ্লয়মেন্ট ইন্সটিটিউট।

ইন্টারন্যাশনাল ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপাঠ চুকিয়ে যেকোম্ন আন্তর্জাতিক সংস্হায় যাতে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে পারে সে ব্যবস্হা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনবল ও কর্পোরেট পার্সন আরো বেশি পরিমাণে তৈরি হবে।

ফরেইন এমপ্লয়মেন্ট ইন্সটিটিউট এর আওতায় বিদেশ গমনেচ্ছু প্রার্থীরা এই ইন্সটিটিউট থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যক প্রশিক্ষণার্থী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত সার্টিফিকেট পাবে যা যেকোন দেশেই প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কাজে আসবে। ফলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা বিদেশে তুলনামূলকভাবে কর্মক্ষেত্রে ভালো বেতনে চাকুরী করতে পারবে এবং সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।