হোটেল ব্যবসা ও আমাদের সম্ভাবনা – এম.সাঈদ চোধুরী

বিশেষ প্রতিবেদন : হোটেল ব্যবসা, পর্যটন শিল্প ও এর সম্ভাবনা নিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম.সাঈদ চৌধুরী ঢাকানিউজ২৪ এ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি হোটেল ব্যবসার নানা বিষয় খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

বর্তমান বিশ্বে আলোচিত কতকগুলো ব্যবসায়ের মধ্যে অন্যতম হলো হোটেল ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো । এই ব্যবসা কালারফুল ব্যবসা। মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য এ ব্যবসা করে না, এরসঙ্গে সেবা ও ব্যবসা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ব্যবসার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে বহির্বিশ্বে সিঠকভাবে তুলে ধরতে পারি। আমাদের দেশ এই মুহূর্তে কোথায় আছে, আমরা কোথায় আছি, এসব বিষযে বিশ্বকে জানানোর জন্য এটি চমৎকার একটা মাধ্যম। এই মাধ্যমকে আমরা যেভাবে পরিচালনা করি,সরকার আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুন্দর একটা নীতিমালার বন্ধন, সুন্দর একটা সমন্বয় সবসময় আমরা উপলব্ধি করি। সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে এর প্রতিফলন পুরো ইন্ড্রাস্ট্রির ওপর পড়ে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গতবছর একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, হলি আর্টিজানের যে দুর্ঘটনাটা।

আমাদের হোটেল ও পর্যটন শিল্পটাকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে এই একটি দুর্ঘটনা। এর প্রভাব এখনো বহন করতে হচেছ আমাদের।হলি আর্টিজানের ঘটনা আমাদেরকে এমন আঘাত দিয়েছে যে, ওই সময় আমিসহ আমাদের অনেক হোটেল ব্যবসায়ীদের লম্বা বুকিংগুলো বাতিল হয়েছে, বিদেশিরা নিরাপত্তার অভাবে এদেশে আসতে চায়নি। তারা বলেছে যে ‘নো,উই আর নট সেইফ’। বিদেশিরা এ দেশে আসে হয় কাজে, কেউ আসে দেখতে, কেউ আসে বেড়াতে, কেউবা আসে আনন্দ উপভোগ করতে। সেই কাজটায় যদি নিজের নিরাপত্তা বিঘিœত হয়, সেখানে তো তারা আসবে না। তাই তাদের সমস্ত বুকিং আমাদের বাতিল করে দিতে হয়েছে। আর বুকিং বাতিল করার প্রভাব আজকের দিন পর্যন্ত আমরা বহন করছি। যেমন বলি, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল বুকিং হয় সাধারণত বুকিং ডট কম, এক্সপেডিয়া, অ্যাগোডা এধরনের কিছু ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে।

এখন ওরা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চাইলেও তা করতে পারছে না, বুঝতে পারছে না ঠিক কিভাবে এই ব্যবসাটাকে এগিয়ে নেওয়া যায়। কারণ বিদেশি যারা দেশে এসে থাকবে, তারা তো নিরাপত্তা বোধ করছে না। গভর্নমেন্ট শত চেষ্টা করেও বিদেশিদের আস্থার জায়গাটা দিতে সেভাবে পারেনি। তবে আমরা এখন যে পর্যায়ে অবস্থান করছি, তাতে করে এখন কিছুটা আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। এই আস্থার কারণে আমাদের বুকিং কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। ব্যবসা নিয়ে আবার এগোবার একটা সুযোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সী বিচ আমাদের গর্বের কক্সবাজার। কক্সবাজারে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী পদপে নিয়েছেন। মেরিন ড্রাইভ রোড আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। এতে করে দেশের বাইরের ফোকাসটা পাওয়া গেছে, পর্যটন সংশ্লিষ্ট যারা ঘুরে বেড়ায় এবং যারা পর্যটকদের এই ইউনিটটা ঘুরিয়ে দেখার আয়োজন করে দেয় ,সবাই হ্যাপি।

তাই বলা যায়, স্বাভাবিক অবস্থা হয়তো ফিরে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে আমাদের পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ ভূমিকা এখনই রাখে। কিন্তু আমার ধারণা এই অবদান প্রত্যাশার তুলনায় মাত্র ২৫ ভাগ। ২৫ শতাংশের বেশি দিতে পারছি না আমরা অর্থনীতিতে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে পারি, সরকারের সহযোগিতা, কো-অপারেশনটা পেতে থাকি, আমার বিশ্বাস এই শিল্প থেকে আমরা ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ জিডিপিতে দিতে পারি। তাহলে এটা হবে বাংলাদেশের সব থেকে সম্ভাবনাময় একটি খাত। যে খাতটা আমাদের নিজস্ব রিসোর্স, ভাড়া করা লাগবে না, কাউকে ডেকে আনা লাগবে না, কোথাও থেকে কিছু যন্ত্রপাতি কিনতে হবে না, বিশাল কোনো বিনিয়োগ লাগবে না। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের যা আছে তা যদি আমরা ঠিকঠাকভাবে তুলে ধরতে পারি তাহলে আর কিছু লাগে না।