চাহিদা সত্ত্বেও ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করল টিসিবি

নিউজ ডেস্ক:  পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও হঠাত্ করেই খোলা ট্রাকে নিত্যপণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবি জানিয়েছে, রমজানের শেষের দিকে এসে পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ডিলাররা পণ্য নিচ্ছে না। তাই গত রবিবার থেকে ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ কথা মানতে নারাজ ডিলাররা। তারা বলছেন, ছোলার চাহিদা কিছুটা কম হলেও চিনি ও সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রচুর।

প্রসঙ্গত: এবার রমজানের আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় গত ১৫ মে থেকে টিসিবি সারাদেশে খোলা ট্রাকে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করলে কিছুটা হলেও ভোক্তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। যদিও চাহিদার তুলনায় টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিমাণ সামান্য।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে চিনি প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ৮৫ টাকায় বিক্রি শুরু করে। একজন ভোক্তার কাছে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৩ কেজি মসুর ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৫ কেজি ছোলা বিক্রি করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টিসিবির পণ্যের মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় ও বাজার থেকে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে টিসিবির পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কারণ বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৭৫ টাকা, ছোলা ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, মসুর ডাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ১০০ থেকে ১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাত্ করে খোলা ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টিসিবির কাছে যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য না থাকায় ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রমজান উপলক্ষে সরকারের এ বিপণন সংস্থাটি যে পরিমাণ ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। কারণ, চাহিদামতো পণ্য সরবরাহের জন্য টিসিবির অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই। যে পরিমাণ পণ্য টিসিবি আমদানি করে থাকে তার ব্যয় বাবদ অর্থ মন্ত্রণালয়কে কাউন্টার গ্যারান্টি দেখিয়ে ঋণ নিতে হয়। সেটিরও সর্বোচ্চ আওতা মাত্র ৮০০ কোটি টাকা। আবার এ পরিমাণ ঋণের অর্থও প্রচলিত সুদ ব্যবস্থায় পরিশোধ করতে হয়। ফলে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

টিসিবির ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ বলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও টিসিবি হঠাত্ করে কেন পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিল বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছি না। রমজান শেষে ঈদ এগিয়ে আসায় চিনি ও সয়াবিন তেলের এখন প্রচুর চাহিদা। কিন্তু এ সময়ই খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

এ প্রসঙ্গে টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, চাহিদা না থাকার কারণে সারাদেশে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে চিনি ও সয়াবিন তেলের তো প্রচুর চাহিদা রয়েছে-কিন্তু তারপর কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদা থাকলে তো বন্ধ করা হতো না। তবে টিসিবির বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। ভোক্তারা চাইলে সেখান থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।