আবগারি শুল্ক কমানো হবে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কয়েকদিন ধরে ইঙ্গিত দিলেও এবার ষ্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন- বাজেটে ব্যাংকের টাকায় যে হারে আবগারি শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কমানো হবে। তবে কমিয়ে কত করা হবে, তা তিনি বলেননি। এ ছাড়া কালো টাকা সৃষ্টির পথ বন্ধ করতে জমি কেনাবেচায় মৌজা মূল্যব্যবস্থার পরিবর্তন করে প্রকৃত দামে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক কর্ম সম্পাদনা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতিতে আবগারি শুল্কমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বছরের যে কোনো সময় এক লাখ টাকার ওপরে স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতিতে ৮০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে। ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বর্তমান ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনে ১৫ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

বাজেট প্রস্তাবের পর ব্যাংক স্থিতিতে আবগারি শুল্ক বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা আবগারি শুল্ক বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক মনে করেছেন। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় কয়েক সাংসদও অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কৃষিমন্ত্রী এ প্রস্তাবকে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বলে উল্লেখ করেছেন। বিএনপিও এ নিয়ে সমালোচনা করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী এ শুল্কহার কমানোর বিষয়ে সম্প্রতি কয়েকটি অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দেন। আর গতকাল তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যখন সমালোচনার কিছু থাকে না, তখন সমালোচকরা একটা কিছু খুঁজে নেন। ব্যাংক হিসাবের স্থিতিতে আবগারি শুল্ক নিয়ে ব্যাপক চিৎকার হচ্ছে। এটা আগেও ছিল। আগে ২০ হাজার পর্যন্ত স্থিতিতে দিতে হতো না। এবার সেই সুযোগ বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। আর এক লাখ টাকার ওপরে স্থিতি হলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে বাজারে এত চিৎকার হচ্ছে যে, কিছু পরিবর্তন সেখানে করা হবে। সংসদে ২৮ জুন এ বিষয়ে জানানো হবে। আগে বললাম এ জন্য যে, অনেকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।’ হারের পাশাপাশি ‘আবগারি শুল্ক’ নামটিও পরিবর্তন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নামটা ঠিক না। এ জন্য নামটা পরিবর্তন করা হবে। এটা এক ধরনের আয়কর। সে বিবেচনায় নাম নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কিছু বলব না।