বান্দরবানে পাহাড়ে ২০০ পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

নিউজ ডেস্ক: বান্দরবানে বিভিন্ন সড়কের কিনারের খাড়া পাহাড়ে দুই শতাধিক পরিবার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। যেকোনো সময় তাদের ঘরবাড়িসহ সড়কে পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও সড়ক যোগাযোগে বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন।

আজ শুক্রবার সরেজমিনে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের মানুরটেক, কসাইপাড়া, মেঘলা পর্যটন এলাকার পুরোনো সড়কে দেখা যায়, পাহাড় কেটে করা সড়কের কিনারে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও সেখানে লোকজন বসবাস করছে। গত সোমবারের ভারী বৃষ্টিপাতের সময় মানুরটেক, কসাইপাড়া ও বাসস্টেশন এলাকায় কয়েকটি পরিবারে বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। ধসে পড়া অংশ আড়াল করার জন্য বাড়ির মালিকেরা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

সড়কের কিনারে কসাইপাড়ায় কয়েক শ ফুট খাড়া পাহাড়ে বসবাসকারী আবুল বশর বললেন, তাঁরা সেখানে শতাধিক পরিবার প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করেন। কিন্তু এবারের বৃষ্টিতে যে রকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হয়েছে, সে রকম আগে কখনো হয়নি। প্রতিবছর বর্ষায় মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় দিনে দিনে তাঁদের বসবাসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু সেখান থেকে অন্য কোথাও সরে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই।

কসাইপাড়ায় একেবারে সড়কসংলগ্ন বাড়ি নজরুল ইসলামের। তিনি বলেন, প্রশাসন ও পৌরসভা পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য মাইকিং করেছে। কিন্তু তাঁর বাড়ি সড়কসংলগ্ন হওয়ায় সমস্যা হবে না বলে মনে করে তিনি কোথাও যান না। তবে বৃষ্টি হলে তাঁরা সবাই সতর্ক থাকেন।

সওজের জরিপ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের জরিপে সড়কের কিনারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বসবাস করছে ১৪৪ পরিবার। এদের মধ্যে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কে ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে বান্দরবানের অংশে ৬৫ পরিবার, একই সড়কের মেঘলা পর্যটনের পুরোনো সড়কের অংশে ৬০ পরিবার, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে সাত পরিবার, আজিজনগর-গজালিয়া সড়কে ১০ পরিবার, বান্দরবান-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে দুই পরিবার। এ পরিবারগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরানো উচিত। না হলে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আরও প্রায় ১০০ পরিবারের সড়কের কিনারে বসবাস রয়েছে।

বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের জরিপ কর্মকর্তা শরীফ হোসেন বলেন, সড়কের কিনারে বসবাসকারীরা কেউ কেউ নিজের জমিতে, আবার অনেকে সওজের জায়গায় বসবাস করেন। নানা রকম জটিলতার কারণে তাঁদের উচ্ছেদও করা যাচ্ছে না। সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তাঁরা যাচ্ছেন না। তাঁদের বাড়িঘর থাকায় সড়ক চওড়া করে ঝুঁকিমুক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাঁদের প্রাণহানির ঝুঁকি ও সড়কের জন্য বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে ও নিচু এলাকায় যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকার সময় সওজকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তালিকা শেষে তাঁদের ব্যাপারে কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।