ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দিনব্যাপী গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ায় ৮/১০ ঘণ্টা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে শুরু হওয়া যানজট বন্দর, সোনারগাঁ উপজেলা হয়ে মেঘনা সেতু হয়ে বাউশিয়া পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে কাঁচপুর, মেঘনা ব্রিজের ওপর কাভার্ডভ্যান-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এবং মেঘনা ব্রিজে ধীরগতিতে টোল আদায় ও ছুটির দিনে মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ যানজটের আরেকটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

সরেজমিনে বিকেল ৫টার দিকে সোনারগাঁ উটপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাড়ির চালকরা ইঞ্জিন বন্ধ রেখে বসে আছেন। মাঝে মধ্যে থেমে থেকে গাড়ি চললেও কিছুক্ষণ গিয়ে আবার বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পরপর ১০ হাত করে গাড়ি সামনে এগিয়ে গেলেও আবার ৩০ মিনিট বসে থাকতে দেখা যায়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুন্দরবন পরিবহনের যাত্রী আবু তাহের ফয়সাল, ইকরাম হোসেন ও রশিদ আমিন বলেন, মহাসড়কের সানারপাড় এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই এলাকা থেকে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে সানারপাড় এলাকায় ছিলাম। গাড়ির ধীরগতির কারণে বিকেল ৫টার দিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পৌঁছালাম।

কুমিল্লাগামী সেতু পরিবহনের যাত্রী সুফিয়া বেগম ও আব্দুল আউয়াল বলেন, রমজান মাসে তীব্র যানজটে দীর্ঘক্ষণ বাসে বসে থেকে কোমর ব্যাথা হয়ে গেছে। মদনপুর থেকে দাউদকান্দি যেতে স্বাভাবিকভাবে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দুই ঘন্টা হাঁটলে হয়তো গৌন্তব্যে পৌঁছাতে পারতাম। যানজটের কারণে চার ঘণ্টা বাসে বসে থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পথ আসতে পেরিছি।

বোরাক পরিবহনের যাত্রী খায়রুল আলম খোকন বলেন, ঢাকা থেকে দুপুরে রওনা হয়ে বিকেল ৫টার দিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় আসলাম। বৃষ্টি হওয়ার কারণে হয়তো তেমন সমস্যা হয়নি। কিন্তু রোদ থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতো।

ইতি পরিবহের চালক সানাউল্লাহ বলেন, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তারা যানজট নিরসনের চেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। টাকা পেয়ে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে করে গাড়িগুলো এলোমেলোভাবে চলছে।

তিশা পরিবহনের শ্রমিক বাদশা মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বৃষ্টি হওয়া, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন, মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়, মহাসড়কে ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল ও সানারপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যানজট দীর্ঘ হয়। ফলে মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সৃষ্টি হয়ে যানজটে পরিণত হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সার্জেন্ট মাহবুবুর রহমান বলেন, মেঘনা ব্রিজের উপর কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের পর গাড়ি সরাতে দেরি হওয়ার যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। তাছাড়া আরও দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শরিফুল আলম জানান, শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মহাসড়কে বাড়তি গাড়ির চাপ ছিল। মেঘনা ব্রিজের উপর কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের পর যানজটের সূত্রপাত হয়।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, মহাসড়কে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।