এক সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

নিউজ ডেস্ক: মাত্র একটা পাকা সেতুর অভাবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ৩টি ইউনিয়নের ২০ গ্রামবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতি বছর এই নদীতে জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ষার প্রবল খরস্রোত থাকায় পারাপারে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হয়। জরুরি কাজে অথবা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে খেয়া নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন কাঁঠালবাড়ীয়া, বোয়ালিয়ারচর, এরান্দহ, গ্রাম পাঙ্গাসী, কৃষ্ণদিয়া, নওদাশালুয়া, আলমচাঁদপুর, পোদ্দারপাড়া, মহৎপাড়া, কুমাজপুর, লনছিয়া, গুপিনাথপুরসহ ৩টি ইউনিয়ন নলকা, ঘুড়কা ও পাঙ্গাসীর অন্তত ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই নদী পার হতে হয়।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জে ফুলজোড় নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। একটি সেতু না থাকায় ৩টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গুড নেইবারস বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও সংস্থাসহ এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে বর্তমানে সাহেবগঞ্জ-ফরিদপুরে ফুলজোড় নদীর উপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে পথচারীদের।

শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত সাহেবগঞ্জ-ফরিদপুর একটি এলাকা। ফুলজোড় নামে এই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করছেন।

এছাড়াও প্রায় পুর্বপাড়ের কেসি ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেসি ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কেসি ফরিদপুর কওমিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা, কেসি ফরিদপুর দাখিল মাদরাসা, আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা গুড নেইর্বাস বাংলাদেশ, পূর্ব ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরিদপুর ফোরকানিয়া মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংগারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নদীর পশ্চিম পার্শ্বে দাদপুর জি আর ডিগ্রী কলেজ, দাদপুর জিআর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দাদপুর সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, দাদপুর সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবগঞ্জ পোস্ট অফিস, বাংলালিংক টাওয়ার, ব্র্যাক ও আশাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অফিস স্টাফসহ হাজার হাজার পথচারীদের নদী পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

দাদপুর জিআর কলেজের অধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন জানান, এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নদীর উভয় পাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পারাপারের কারণে যথাসময়ে ক্লাস করতে পারে না। তাই এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ অতীব জরুরি।

মুরাদপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জিল্লুর রহমান জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানালেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নলকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার সরকার জানান, এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য নকশা ও প্রাক্কলন তৈরি করে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর রায়গঞ্জ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা এম.এ বাসেদ জানান, প্রাক্কলনটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।