পাহাড় ধসে নিহত সেনা সদস্যদের জানাজা সম্পন্ন

নিউজ ডেস্ক:  পাহাড় ধসের পর উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়ে নিহত দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্যের জানাজা ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার বাদ জোহর এ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ারচীফ মার্শাল আবু এসরার, জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

জানাজায় নিহত সেনা সদস্যদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল রাশিদুল হাসান জানান, পাহাড় ধসে নিহত মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক ও ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্তকে বৃহস্পতিবার সামরিক মর্যাদায় বনানী সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। জানাজার পর তাদের মরদেহ মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। নিহত অপর দুই সেনা সদস্যের মরদেহ বুধবার হেলিকপ্টারযোগে তার গ্রামে পাঠানো হয়েছে।

মেজর মাহফুজুলের গ্রামের বাড়ি মানিগঞ্জের সিংড়াইলে। তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করে ও ৪৪তম বিএমএ লংকোর্সে কমিশনপ্রাপ্ত হন। সাহরাব নামে পাঁচ বছর এক ছেলে রয়েছে তার।

বাবার জানাজায় উপস্থিত ছিল ছোট্ট শিশু সাহরাব। এসময় ঊর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সাহরাব ও তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। ক্যাপ্টেন তানভীরের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। তিনি ৬৪তম বিএমএ লংকোর্সের সঙ্গে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তানভীর সদ্য বিবাহিত।

এদিকে জানাজার পর কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম তার নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। কর্পোরাল আজিজুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। সৈনিক শাহিনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার আদমদিঘী।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মানিকছড়িতে যান চলাচলাচল স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর মানিকছড়ি ক্যাম্পের একটি দল শুরু করে উদ্ধার তৎপরতা। সেই উদ্ধার তৎপরতা চলাকালেই পাহাড়ের একটি অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট নিচে ছিটিকে পড়ে। এ ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ১০ জন। দুর্ঘটনার শিকার এক সেনা সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।