চাল আমদানি হচ্ছে বেসরকারি খাতে

নিউজ ডেস্ক: বেসরকারি খাতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। স্থলবন্দর দিয়েও ভারত থেকে চাল আমদানি হচ্ছে। তবে নানা কারণে চাল আমদানির পরিমাণ খুবই কম।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে দুটি চালানে কনটেইনারে করে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ ১ হাজার মেট্রিক টন চালের একটি চালান নগরের একটি বেসরকারি ডিপোতে খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিমাণ চালে চট্টগ্রামের মাত্র দুদিনের চাহিদা মিটবে।

খাদ্য বিভাগের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। সব চালই এসেছে বেসরকারি খাতে। এসব চালের বড় অংশই এসেছে স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে। এর বাইরে মিয়ানমার থেকে সামান্য পরিমাণে চাল আমদানি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, চাল আমদানিতে চড়া শুল্ক থাকলেও স্থানীয় বাজারে চালের দাম বাড়তি। তবে শুল্ক কমানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে আমদানি করে ঝুঁকি নিতে চান না। কারণ শুল্ক কমলে আমদানি করা চাল নিয়ে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বেন।

আবার মিয়ানমারে পাটের ব্যাগ নেই। প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আমদানি করতে হয়। দেশে পাটের বস্তায় চাল বাজারজাত ও বিপণন বাধ্যতামূলক। ফলে একসঙ্গে বেশি চাল আমদানি করার পর পাটের ব্যাগে স্থানান্তর নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় বেশি আমদানি করে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা।

মিয়ানমার থেকে চাল আমদানিকারক গ্রিনগ্রেইন গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. ফখরুদ্দিন বলেন, মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করে পাটের ব্যাগে বাজারজাত করতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছেন তাঁরা। প্লাস্টিকের বস্তায় চাল এনে আবার তা পাটের ব্যাগে বোঝাই করতে কেজিপ্রতি ১ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

স্থলবন্দর দিয়েও চাল আমদানি করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। পাইকারি বাজার চাক্তাইয়ের প্রতিষ্ঠান মনসা স্টোরের ৩০০ টনের চালের একটি চালান ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল বাজারে ঢুকেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও চাক্তাই ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক ও গাড়িভাড়াসহ প্রতি কেজিতে বাড়তি খরচ পড়ছে সাড়ে ১২ টাকা।