আমাদের বৃষ্টিভেজা শহর

নিউজ ডেস্ক: কথাগুলো গল্প নয়, সত্যি। এ শহরে আমরা কখনও বাদুড়ঝোলা, কখনও কাকভেজা হয়ে পথ চলি। বর্ষা এলেই বৃষ্টিতে ভিজে অফিসে যেতে হবে। কথাটা যখনই মাথায় আসে; তখনই পুরনো ছাতার কথা মনে পড়ে। কোথায় যেন রেখেছিলাম। ধ্যাৎ, আমার সব জিনিস চুরি হয়ে যাচ্ছে। মেজাজটাই খারাপ। এদিকে ঠান্ডাও লাগছে। কীভাবে যে যাব অফিসে? অফিসে তো যেতেই হবে- ক্ষমা নেই। কী আর করা, অনেক খুঁজেও যখন ছাতাটা পেলাম না; মনটা স্থির করে রওনা দিলাম।

পবিত্র রমজান মাসের ১৬তম দিন, রোজা আছি। বেলা ২টায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। বাসা থেকে বের হয়েই দেখি একটা রিকশা। চিৎকার করলাম, ‘ওই মামা যাবা?’ রিকশাওয়ালা পলিথিন ভাঁজ করছিল। ওই মুহূর্তেই রিকশায় উঠে বলি, ‘মামা, চলো আগে একটা ছাতা কিনব। এরপর অফিসে যাব।’ ছাতার দোকানে গিয়ে আমার পছন্দমতো সুন্দর একটা ছাতাও কিনলাম।

ছাতাটা কেনা মূলত এই কারণে যে, শারীরিকভাবে যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ি। যা হোক, এখন ছাতা শুধু আমার হাতেই নয়, হাজারও মানুষের হাতে। কারণ বৃষ্টি ঝরছে মুষলধারে। চারদিকে বাহারি ছাতা। রঙ-বেরঙের ছাতা। ছাতার নিচে দুজনের ঘনিষ্ঠতা। এসব দেখে হাসছিলাম। তবে আজকের দিনে ছাতার ব্যবসা করলে মনে হয় ভালো হতো। ভাবতে ভাবতে হেঁটে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে এলাম। এসে দেখি, বাস নেই, আছে শুধু মানুষ আর মানুষের হাতে হরেকরকম ছাতা।

সবাই অপেক্ষা করছে বাসের জন্য। আমি ওখানে না দাঁড়িয়ে বিকল্প রাস্তার উদ্দেশে রওনা দিলাম, যাব বাড্ডা। বিকল্প পথে কারওয়ানবাজার এলাম। সেখান থেকে মাইক্রোবাসে মেরুল নামব। মেরুল থেকে তুরাগ বা অন্য কোনো বাসে অফিস পর্যন্ত যাব। কিন্তু না, দেখি পেট্রোবাংলার সামনের রাস্তা পানির নিচে। ক’দিন আগে সেখানে ফ্লাইওভার চালু হয়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে গাড়ি আর মানুষের ছুটে চলা। সবাই যে যার গন্তব্যে পৌঁছায়।