বিশ্বকাপ স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মাশরাফি

বাংলাদেশের এই দলের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মেলে ১৯৯৬ সালের শ্রীলঙ্কার। দীর্ঘদিন লড়াই করতে করতে রানাতুঙ্গা, ডি সিলভা, জয়াসুরিয়ারা ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ওঠেন এই সময়, আর তাঁদের মিলিত গর্জনে শ্রীলঙ্কা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহ বাংলাদেশ দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের নামগুলো দেখুন। খেলছেন বহু বছর ধরেই। চড়াই-উতরাই আর সময়ের প্রবাহ যে শিক্ষা দিয়েছে তাতে এখন সবাই পরিণত। আর তারই ফল হলো, ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেলেও বিশ্বাসটা থাকে। নিশ্চিত হারের মুখেও ভেঙে না পড়ার পাথুরে শক্তি এখন দলে। সেই শক্তিকে বিন্যস্ত করাতে কোচ এবং অধিনায়ক কৃতিত্ব পাবেন, কিন্তু খুব ভেবে দেখলে মূল জায়গা আসলে অভিজ্ঞ বা কোর গ্রুপের পারফরম্যান্স। এবং এই টুর্নামেন্টেও তাই। মুস্তাফিজ ইদানীং বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এই টুর্নামেন্টে সেভাবে নেই তিনি। সৌম্য বা সাব্বিরও গত দুই বছরের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পাথেয় জুগিয়েছেন। এখানে নিখোঁজ তাঁরাও। গত ম্যাচে মোসাদ্দেক আর তাসকিনের বোলিং বাদ দিলে বাংলাদেশ যে সেমিফাইনালের রথটাকে টেনে চলছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররাই। কেন? মাশরাফি বললেন, ‘অভিজ্ঞতা। এর তো একটা দাম আছে। আর এখানে আসলে অভিজ্ঞতা লাগে। আগে যারা খেলেছে তারাই এর চরিত্র-ধরন খুব ভালো বুঝতে পারছে। তরুণদের একটু সময় লাগবে। ’ তরুণদের একজন তাসকিন অবশ্য বিষয়টাকে এভাবে দেখতে রাজি নন, ‘আমার মনে হয় সবাই পারফর্ম করেছে বলেই আমরা সেমিফাইনালে এসেছি। দলের সবার অবদান মিলিয়েই তো আজকের আমাদের এই অবস্থান। ’ তবু কি সিনিয়র খেলোয়াড়দেরই বেশি টানতে হচ্ছে না। এক ম্যাচ খেলেছেন তাসকিন এবং সেখানে তাঁর বোলিংটা ছিল চমত্কার। তাই এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়াটাকে খুব গ্রহণযোগ্য মনে হয় না তাঁর। তবে মানতে আপত্তি নেই যে সিনিয়র ক্রিকেটাররা পথ দেখাচ্ছেন সামনে থেকে, ‘দলে সবারই দায়িত্ব আছে। শুধু সিনিয়রদের একার নয়। তবে আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা দারুণ খেলছেন এই টুর্নামেন্টে। এটা আমাদের দলের জন্য ভালো। আর আমাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণাও। আশা করি, পরের ম্যাচেই হয়তো আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারব। ’