ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি জালাল আহমেদ রাজু’র নামে পল্লী বিদ্যুতের ইলেক্ট্রিশিয়ান ও ভৈরবপাশা ইউনিয়নের নবনির্মিত আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। খোদ শিল্পমন্ত্রী ও ঝালকাঠির এমপি আমির হোসেন আমু’র নাম ভাঙ্গিয়ে এ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলেও জানান ভুক্ত ভোগীরা।

ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি জালাল আহমেদ রাজু জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, আমরা দালালমুক্ত করতে মসজিদে মসজিদে লিফলেট বিতরণ ও গ্রামে গ্রামে মাইকিং করেছি। আমরা অথবা পল্লী বিদ্যুত অফিস যদি এর সাথে সংযুক্ত থাকতাম তাহলে প্রচার-প্রচারণা চালাতাম না। একশ্রেণির দালাল ও কুচক্রি মহল আছে। যাদের কাছ থেকে ওই চক্রটি এখন ফায়দা নিতে পারছে না। তারাই এমন অভিযোগ দিতেছে। এসব অভিযোগ উদ্যেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন।

ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতির সদস্যরা জানান, ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুত সমিতির ৬০ জন ইলেক্ট্রিশিয়ানদের নিয়ে একটি সংগঠন তৈরী করা হয়। সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দাবি করেন পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি জালাল আহমেদ রাজু। তবে তিনি নিজে সরাসরি না চেয়ে লোক মারফত এ দাবি করেন। ওই লোক দাবি করার সময় উল্লেখ করেন সমিতি করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। মন্ত্রীসহ (শিল্পমন্ত্রী) কয়েক জায়গায় টাকা দিতে হয়েছে। এতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। প্রত্যেককে ৫ হাজার করে টাকা দিতে হবে।

ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতির সভাপতি মোঃ সাইদ জানান, রাজু ভাই সরাসরি আমাদের কাছে কোন টাকা চান নি। কিন্তু এক লোক এসে প্রত্যেকের কাছে নির্ধারিত হারে টাকা চেয়েছে। আমরা বলেছি সব ইলেক্ট্রিশিয়ানের আয় এক রকমের না। কারো ভালো আয় আছে আবার কারো নুন আনতে পানতা ফুরায়। তারপরেও আমাদের জেলা ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতি আছে। তাঁদের সাথে আলাপ করে জানাবো। এখনও কোন দেইনি।

আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ভৈরবপাশা ইউনিয়নের (ভৈরবপাশা ও রায়পাশা) দু’টি ইউনিট নিয়ে উত্তমাবাদ নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। ১ শত পরিবারের বসবাসের জন্য আবাসন নির্মাণ হয়েছে। এখানে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চলছে। ভৈরবপাশা ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মানিক ও রায়পাশা ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আঃ রহিম প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে উত্তোলন করছে। এছাড়াও পল্লী বিদ্যুত সমিতির শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘাম জড়ানোর উপার্জনের একটা অংক তাকে দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। এ ব্যাপাারে ইউপি সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।