এফডিআই বেড়েছে

বিশ্ব বিনিয়োগ পরিস্থিতির স্থবিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২০১৬ সালে এফডিআই এসেছে ২৩৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।
স্বাধীনতার পর দেশে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ এফডিআই। ২০১৫ সালে এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ২২৩ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নের মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ওম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সেলিমা আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, পৃথিবী ব্যাপী যেখানে এফডিআই হ্রাস পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এফডিআই আহরণে ভাল করেছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০১৬ সালে এফডিআই প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডয়িং বিজনেস’ সূচকে আমাদের অবস্থান নিচের দিকে থাকলেও এফডিআই আহরণে সাফল্য উল্লেখ করার মত। আগামী দিনগুলোতে কেবল পরিমাণগত দিক দিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় না, গুণগত বিনিয়োগ চায়। এজন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে ‘ডয়িং বিজনেস’ সূচকে এক’শর মধ্যে নিয়ে আসতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, একটা ভাল দিক হচ্ছে-পুনঃবিনিয়োগ হচ্ছে। অর্থাৎ যারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন, তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখে পুনঃবিনিয়োগ করছেন। টেলিকম ও বিদ্যুৎখাতে বেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে। এর মাধ্যমে অন্য খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ৪৮ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এসব দেশের মধ্যে বৃহৎ আকারের ১০ নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাবের ৩টিই এসেছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে বড় আকারের বিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। মালয়েশিয়ার টেনেগা নাসিওনাল কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ২৫০ কোটি ডলার জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাকৃতিক ও তরল গ্যাস খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে চীনের জেনারেল টেকনোলজি গ্রুপ। একই খাতে ভারতের রিলায়েন্স এডিএ তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০৫ ডলার বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশের এফডিআই পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আঙ্কটাড। বিশেষত প্রতিবেশী ভারত এবং চীন থেকে বাংলাদেশে এফডিআই বাড়তে পারে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এফডিআই আকর্ষণে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) কথা উল্লেখ করা হয়। এসইজেডে বিনিয়োগে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ নেই। এ ছাড়া বিনিয়োগে সরাসরি উন্নয়ন এবং নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিকে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট এফডিআইর স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৩৩ কোটি ডলার।