ইফতারে জামরুল

নিউজ ডেস্ক:  দিনের দৈর্ঘ্য এখনো বাড়ার ওপরই আছে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া। তাই রমজানজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ থাকছে জামরুল—
পুষ্টি
যেন গোলাপের মতো দেখতে এক আপেল। এ জন্য এর নাম ‘রোজ অ্যাপল’। ভিটামিন সি, ভক্ষণযোগ্য ফাইবার, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, নিয়াসিন, আয়রন, সালফার আর পটাসিয়ামে ঠাসা এক ফল। অর্গানিক উপাদান খুঁজলে মিলবে জাম্বোসাইন, বেটুলিনিক এসিড আর ফ্রাইএডেলোল্যাক্টন। এ সবই স্বাস্থ্যের যত্নে অনন্য। কাজেই ইফতারে কেন থাকবে না এই ফল!

হজম
জামরুলের উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমে দারুণ উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো সমস্যাই থাকে না। এর বিচি ডায়রিয়া প্রতিরোধে অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে।

ডায়াবেটিস
জাম্বোসাইন একধরনের ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ মানুষের দেহে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধা ঠেকিয়ে দিতেও দক্ষ এটি। কাজেই জামরুল খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে যাবে না।

বিষাক্ত উপাদান

প্রতিনিয়ত শরীরে বিষাক্ত উপাদান ঘুরে বেড়ায়। শত শত বছর ধরে দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে বের করে দিতে এই গোলাপ আপেলের কদর রয়েছে। লিভার আর কিডনির বিষ দূর করে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে যেন এক অব্যর্থ টোটকা এই জামরুল।

কোলেস্টেরল
ফাইবার ও পুষ্টি উপাদানের সম্মিলত উপস্থিতি দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দারুণ কার্যকরী। অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকিও কমে আসে উল্লেখযোগ্য হারে। কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ক জটিলতা হ্রাস পায়। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর করোনারি রোগের ঝুঁকিও আপনাকে পেরেশানিতে রাখবে না।

রোগ প্রতিরোধ
জামরুলের কার্যকরী ও শক্তিশালী উপাদানগুলো জীবাণু এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকায় এই ফল। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সাবধানতা
অতিমাত্রায় খেলে বা এর বিচি অনেক সময় বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই বুঝেশুনে খাওয়া দরকার। এর মাংসল অংশ ও ত্বক ছাড়া অন্যান্য অংশ এড়িয়ে চলাই ভালো।