যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

নিউজ ডেস্ক:  আজ যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন। জমজমাট ছিল প্রচারণা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ব্রিটেনের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তারাও। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা বিভিন্ন দলের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাদের মধ্যে লেবার পার্টি থেকে আটজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে একজন, ফ্রেন্ডস পার্টি থেকে একজন এবং চারজন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। তাদের সম্ভাবনা ও অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন লন্ডন প্রতিনিধি হেফাজুল করিম রকিব

লেবার পার্টির ৮ প্রার্থী

রুশনারা আলী

২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাঙালি অভিষেক হয় রুশনারা আলীর। ১৯৭৫ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথে জন্মগ্রহণ করা রুশনারা আলী মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে পাড়ি জমান। টাওয়ার হ্যামলেটে বেড়ে ওঠা রুশনারা টাওয়ার হ্যামলেটের মালবারি স্কুল ও টাওয়ার হ্যামলেট কলেজে লেখাপড়া শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জনস কলেজে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর জড়িয়ে পড়েন ব্রিটিশ রাজনীতিতে।

যে চারজন হাউস অব পার্লামেন্টে জায়গা করতে যাচ্ছেন এবারের নির্বাচনে তাদেরই একজন রুশনারা আলী এমপি। যাকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দাবিদার বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যান। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্রিটেনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি লেবার পার্টিকে সরকারে ফিরিয়ে আনতে বাঙালি কমিউনিটিসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে বললেন রুশনারা আলী। আবারও এমপি নির্বাচিত হলে এবং লেবার পার্টি মতায় গেলে পূর্ব লন্ডনের ভয়াবহ হাউজিং সমস্যার সমাধানে লেবার পার্টি নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রুশনারা আলী।

সেই সঙ্গে বেডরুম ট্যাক্স বাতিল ও ভাড়াটিয়াদের সুরায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। যে দলই মতায় থাকুক না কেন, ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে অটুট রাখতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রুশনারা আলী। রুশনারা আলী এমপি নির্বাচিত হন দুবার। তবে দল মতায় না থাকলেও বিভিন্ন সময় ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রেক্সিটসহ সব আন্দোলনেও ছিলেন প্রথম সারিতে। বাংলাদেশের জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জনমত গড়ার আন্দোলনে সক্রিয় ক্যাম্পেইনারও ছিলেন রুশনারা আলী।

টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক

এবার লন্ডনের সবচেয়ে আলোচিত আসনে লেবার পার্টির পে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। ২০১০ সালে ক্যামডন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগদানকারী গতবারের নির্বাচিত এমপি টিউলিপ নির্বাচনী প্রচারে এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছেন। গত দুই বছর সংসদ ও সংসদের বাইরে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোড়ন তোলেন। ব্রিটেনের গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে ফলাও করে বিভিন্ন প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে।

এবারও ব্রিটেন পার্লামেন্টের নির্বাচনী আলোচনায় উঠে এসেছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ছায়ামন্ত্রী থেকে পদত্যাগ এবং নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন নিয়মিত। এ ছাড়া ট্রাম্পের সফরের বিরোধিতা করেও আলোচনায় আসেন তিনি। ওয়েস্টমিনস্টারে ১০ ভালো বক্তার তালিকায়ও প্রথম কোনো বাঙালি এমপি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন টিউলিপ। কনজারভেটিভ পার্টির সমালোচনা করে টিউলিপ ব্রিটেনকে এগিয়ে নিতে লেবার পার্টির পে কাজ করার পাশাপাশি মতায় আনার আহ্বান জানান।

এবারের নির্বাচনে অন্য বাঙালি প্রার্থীর পাশাপাশি তিন কন্যার আসন ধরে রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানালেন টিউলিপ। ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের মিচহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন টিউলিপ। ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং কিংস কলেজ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০১১ সালে তিনি পলিটিকস পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বিষয়ে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। টিউলিপ তার স্বামী ও সন্তান নিয়ে বর্তমানে ওয়েস্ট হ্যাম্পস্টিডে বাস করছেন।

রুপা হক

ব্রিটেনে এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা প্রায় তারকাখ্যাতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের পছন্দের তালিকায়ও এগিয়ে থাকা গতবারের নির্বাচিত আরেক বাঙালি এমপি প্রার্থী হচ্ছেন ইলিং সেন্ট্রাল ও এক্টন আসনের প্রার্থী ড. রূপা হক। ১৯৭২ সালে পাবনায় জন্ম নেওয়া রূপা অধ্যাপনার পাশাপাশি একাধারে লেখক, কলামনিস্ট ও মিউজিক ডিজে। বাবার অনুপ্রেরণায় ১৯৯১ সালে লেবার পার্টির সদস্য হন তিনি। ২০১০ সালে লন্ডনের ইলিং কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

আর এমপি নির্বাচিত হন ২০১৫ সালের নির্বাচনে। আবারও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন পাওয়া রূপা বললেন, গতবারের মতো আসনটিকে ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ। কিংস্টন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও গতবারের নির্বাচিত এমপি ড. রূপা হক এবারও লড়ছেন লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে। ১৯৭২ সালে লন্ডনের ইলিংয়ে জন্ম নেওয়া রূপার আদি বাড়ি পাবনায়। গতবার তিনি ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন।

মেরিনা আহমদ

যুক্তরাজ্যের ৮ জুনের সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের বেকেনহাম আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন বাঙালি কন্যা মেরিনা মাসুমা আহমেদ। পার্টির প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এই আসনে নির্বাচন করার টিকিট লাভ করলেন। এই আসনে বর্তমানে এমপি হিসেবে আছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির। নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেওয়া মেরিনা আহমদ মা-বাবার সঙ্গে ছয় মাস বয়সে যুক্তরাজ্যে যান। মেরিনা ৩০ বছর ধরে লেবার পার্টির সদস্য। মেরিনা বলেন, আমি ছোট বয়স থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি।

আমি বিশ্বাস করি লেবার পার্টির মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি যেতে পেরেছি। বেকেনহামের যেখানে থাকি, সেখানে আমি দলের হয়ে অনেক দিন ক্যাম্পেইন করেছি। আমি দলকে অনেকগুলো আইডিয়া দিয়েছি। কারণ বেকেনহাম হলো রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঞ্চল। এই আসনে জয় পেতে লেবার পার্টিকে অনেক সংগ্রাম করতে হবে। তবু আমি এই আসনে এমপি পদে নির্বাচন করতে চাই। জয়ের ব্যাপারেও আমি খুব আশাবাদী। তিনি বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীতে অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার মধ্যে শিক্ষা হলো অন্যতম। এ ছাড়া তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মোট কথা, বাংলাদেশ কমিউনিটির সব ধরনের সমস্যা আমার পার্টির পক্ষ থেকে সমাধান করা হবে।

রওশন আরা

ঢাকায় জন্ম নেওয়া রওশন আরা মাত্র আট বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতেই ব্যবসায়ী স্বামীর উৎসাহে রাজনীতিতে যোগ দেন রওশন আরা। ২৫ রাজনীতির পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকায় লেবার পার্টির মনোয়ন পেয়েছেন তিনি।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নির্বাচিত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও হাউজিং সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই প্রার্থী। লেবার পার্টি থেকে প্রথমবারের মতো সাউথ থেনেড আসনে একজনই বাঙালি মনোনয়ন পেয়েছেন রওশন আরা। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও চ্যারিটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

সাউথ থেনেড থেকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান তথা বাংলাদেশি এমপি প্রার্থী রওশন আরা। তিনি লেবার পার্টির হয়ে ৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

আবদুল্লাহ রুমেল খান

ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিতে ক্রমেই বাড়ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ। ৮ জুন ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির প থেকে পোস্টমাউথ নর্থ আসনে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল্লাহ রুমেল খান। তার জন্ম ঢাকায়। আর আদি বাড়ি সিলেট সদরে। সাত বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। এরপর সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে কনজারভেটিভের বিপরীতে লেবার কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করতে চান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই প্রার্থী।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ রুমেল খান বললেন, ব্রিটেনের সঙ্গে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে তার চেষ্টা সব সময়। কমিউনিটি ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ব্রিটিশ বাংলাদেশি ইয়ুত লীগের চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ রুমেল খান ওয়েস্টমিনস্টারে যাচ্ছেন কিনা, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই। আবদুল্লাহ রুমেল খান পোর্টসমাউথ নর্থ আসন থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। লুটনে বাঙালির বৃহৎ ইয়ুত ও কমিউনিটির বাংলাদেশ ইয়ুথ লীগের চেয়ারম্যান খুবই জনপ্রিয় একজন মানুষ। আবদুল্লাহ রুমেল খানের জন্ম ঢাকায়, আদি বাড়ি সিলেট সদরে। সাত বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।

আনোয়ার বাবুল মিয়া

এবার লেবার পার্টি থেকে বাঙালি এমপি প্রার্থীর পাল্লা একেবারে হালকা নয়। তাই সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্য থেকে বয়সে তরুণ শিতি আনোয়ার বাবুলও ওয়েস্টমিনস্টারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। জনগণের কণ্ঠকে পার্লামেন্টে নিয়ে যাওয়ার ল্েয রাজনীতিতে এসে এমপি প্রার্থী হওয়া বলে মন্তব্য করলেন এই প্রার্থী। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের চিন্তাভাবনা ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে ব্যস্ত প্রার্থীরা।

এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিও বেশ সরব। দল বড় কথা নয়, ওয়েস্টমিনস্টারে কমিউনিটিতে আরও কয়েকজন বাঙালি এমপি চান সবাই। এদিকে এ নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে আশাব্যক্ত করেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর গ্রামের ছেলে আনোয়ার বাবুল। ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ড নামের এই আসনে তিনি লড়বেন কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে। আইন পেশায় নিয়োজিত আনোয়ার বাবুলের জন্ম ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

ফয়সল চৌধুরী এমবিই

স্কটল্যান্ডের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলো বাংলাদেশি কমিউনিটি। রাজধানী শহর এডিনবারায় প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফয়সল চৌধুরী এমবিই। এডিনবারা সাউথ ওয়েস্ট আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এডিনবারা সাউথ ওয়েস্ট একটি আলাদা নির্বাচনী আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই এ আসনটি লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। লেবার প্রার্থী ফয়সল চৌধুরীর বিপরীতে আছেন জোয়ানা চেরি।

এসএনপির পে তিনি আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন। ফয়সল চৌধুরীর ইলেকশন এজেন্ট গর্ডন মিলার বলেন, দলের কর্মীদের মধ্যে এবার যে স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব তা নিকট অতীতে তিনি দেখেননি। বাঙালি পরিবারের সন্তান ফয়সল চৌধুরীর জন্ম নবিগঞ্জ থানার বদরদি গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে সাত বছর বয়সে বিলেত আসা। ২০০৪ সালে তরুণ বয়সেই ব্রিটিশ রানি কর্তৃক ‘এমবিই’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। ‘চ্যানেল এস কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড’ পান ২০০৬ সালে। তিনি এডিনবারা অ্যান্ড লোদিয়ান রিজিওনাল ইকুয়্যালিটি কাউন্সিলে (এলরেক) চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন দীর্ঘকাল ধরে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

সাজু মিয়া, লিবডেমের ১ প্রার্থী

ব্রিটেনের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেট থেকে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন একজন। ওয়াইর ফরেস্ট আসনে লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থী হয়েছেন সিলেটের জগন্নাথ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাজু মিয়া। পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে লন্ডনে আসা সাজু মিয়া ১০ বছর ধরে লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির সঙ্গে কাজ করেন। অবশেষে এমপি পদে লড়ছেন কনজারভেটিভ দুর্গ নামে খ্যাতে ওয়াইর ফরেস্ট আসনে হানা দিতে প্রথম কোনো বাঙালি। তিনি বলেন, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির নেতা পেডিস্টসহ বিশ্বের অনেক নেতার অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে এসেছি মানুষের সেবা করার জন্য।

১৯৭৯ সালে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া সাজু মিয়া যদি নির্বাচনে জয় লাভ করেন, তাহলে নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে তা বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। যদিও আমি এখানে জন্মগ্রহণ করেছি, তার পরও আমি মাছে-ভাতে বাঙালি। আমার যতটুকু সামর্থ্য হবে সে অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য কাজ করার চেষ্টা করব। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সাজু মিয়া একজন আইন বিশেষজ্ঞ। তিন সন্তানের জনক সলিসিটর সাজু মিয়া ওয়াইর ফরেস্ট ডিস্ট্রিক কাউন্সিল থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রথম কোনো বাঙালি কাউন্সিলরও হন।

ওলিউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী

ওলিউর রহমান সাত বছর বয়সে সিলেট থেকে লন্ডনে আসেন মা-বাবার সঙ্গে। যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। বাঙালি অধ্যুষিত পপলার এবং লাইমহাউস থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি টাওয়ার কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিসিএস ইউনিয়ন ইস্ট লন্ডন শাখার চেয়ার এবং টয়নবি হাউজিং অ্যাসোসিয়শনের বোর্ড মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেন। কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আজমল মাশরুর, আবু নওশাদ ব্যারিস্টার মির্জা জিল্লুর এবং ফ্রেন্ডস পার্টি থেকে আফজল চৌধুরী