নষ্ট মোবাইল রিসাইকেল করবে গ্রামীণফোন

নিউজ ডেস্ক:  নষ্ট, বাতিল মোবাইল হ্যান্ডসেট রিসাইক্লিং করবে দেশ সেরা মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। এসব নষ্ট বা বাতিল ডিভাইস ভেঙে এর বিভিন্ন উপাদান পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করবে।

এক্ষেত্রে গ্রামীণফোন এটা নিশ্চিত করছে যে, সেসব ডিভাইসের মধ্যে পুনর্ব্যবহার উপযোগী সকল উপকরণসহ সম্ভাব্য ক্ষতিকর উপাদান সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় অপারেটরটি অনুসরণ করবে আইএসও ১৪০০০, ওএসএইচএএস ১৮০০০ এবং ‘আন্তর্জাতিক স্ট্যাডার্ড’ বা আর ২।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে গ্রামীণফোন সেন্টারে ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট রিসাইক্লিং’ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। ৫ জুন বিশ্ব পরিবশে দিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচীটির যাত্রা করায় তারা।

গ্রামীণফোন তাদের প্রতিটি কাস্টমার সেন্টারে একটি করে বক্স রাখবে। যেখানে নষ্ট হ্যান্ডসেটগুলো ফেলা যাবে। এর বিনিময়ে একটি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে ফরম দেবে অপারেটরটি।

প্রধান অতিথি থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রাইসুল আলম মণ্ডল। তিনি বলেন, সবুজ পরিবেশের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সবসময় সোচ্চার থেকেছে। তবে আমরা এমন নষ্ট ফোনের মাধ্যমে যে কী পরিমাণে এবং কোন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হই তা অনেকেই বুঝি না। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানুষ সচেতন হবে এবং তাদের নষ্ট হ্যান্ডসেটগুলো গ্রামীণফোনের

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. নাসিম পারভেজ বলেন, আমরা কখনো চিন্তা করি না যে দেশে প্রতিবছর কী পরিমাণে হ্যান্ডসেট অকেজো হয়ে পড়ে। আর সেগুলো কী হয়। দেশে এখন বছরে প্রায় তিন কোটি হ্যান্ডসেট নষ্ট হয়। যা রিসাইকেল করার কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রামীণফোন দেশে বিষয়টি প্রথম সামনে নিয়ে এলো।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফলি বলেন, পরিবেশের উপর বাতিল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার ক্ষেত্রে রিসাইক্লিং একটি পরিবেশ বান্ধব নিরাপদ ও নৈতিক পদ্ধতি। পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে অব্যবহৃত ও বাতিল ফোন মাটিতে মিশে যেতে না দিয়ে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নৈতিক উপায়ে রিসাইক্লিং করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটিই করবে তারা।

এজন্য অপারেটরটি সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণফোন সরাসরি হ্যান্ডসেটের সঙ্গে জড়িত না। কিন্তু মোবাইল সেবায় তারা ওতোপ্রতভাবে জড়িত। তাই এটি তারা অস্বীকার করতে পারে না।

মোবাইল হ্যান্ডসেটে পারদ, ক্যাডমিয়াম, সীসা, বেরিলিয়াম এবং অগ্নি প্রতিরোধক সহ একাধিক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এসব হ্যান্ডসেট সঠিকভাবে ধ্বংস না করা হলে কিংবা মাটিতে মিশে গেলে মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে নির্গত ক্ষতিকর উপাদান মাটি ও খাবার পানি দূষিত করে।

একটি মোবাইল ফোন থেকে যে পরিমাণ ক্যাডমিয়াম নির্গত হয় তাতে ছয় হাজার লিটার পানি দূষণ করতে পারে। মোবাইল ফোন নির্মাণে ব্যবহৃত অগ্নি প্রতিরোধক উপাদান, সীসা ও বেরিলিয়াম ক্যান্সার, যকৃত এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসহ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোগের কারণ। মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ও সার্কিট বোর্ডে ব্যবহৃত পারদ মস্তিষ্ক ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এক চা চামচ পরিমাণ পারদ ২০ একরের একটি লেকের পানি আজীবনের জন্য দূষন করতে পারে।

কর্মকর্তারা জানান, গ্রামীণফোনের কাছে রিসাইক্লিং করার জন্য দেওয়া হ্যান্ডসেট কোনো অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে না কিংবা পুনরায় ব্যবহার করা হবে না। হ্যান্ডসেটগুলো মাটি চাপা না দিয়ে বরং সঠিক উপায়ে ভেঙে ফেলা হবে এবং প্রাপ্ত উপাদানগুলো নতুন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।