সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

নিউজ ডেস্ক:  সুুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির দাবি, সারাদেশে থাকা অন্যান্য ‘মূর্তিও’ সরাতে হবে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

হেফাজত ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দল ও সংগঠন ‘মূর্তি’ অপসারণের দাবি পূরণ হওয়ায় পল্টন এলাকায় শোকরানা মিছিল করে। ইসলাম আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনের সমাবেশ থেকেও দাবি জানানো হয়, সারাদেশে থাকা সকল ‘মূর্তি’ অপসারণ করতে হবে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের মিছিল থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, ভাস্কর্য অপসারণ বিরোধীরা যেখানে কর্মসূচি দেবে সেখানেই তাদের প্রতিহত করা হবে।

গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীক দেবী থেমিসের আদলে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ধর্মভিত্তিক দলগুলো ভাস্কর্যটিকে অনৈসলামিক মূর্তি বলে আখ্যা দেয়। গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, ভাস্কর্যটি সরানো হবে। হেফাজতসহ সব ধর্মভিত্তিক দলের দাবি ছিল, রমজানের আগেই অপসারণ করতে হবে। শুক্রবার মধ্যরাতে ভাস্কর্যটিও সরানো হয়।

দাবি পূরণ হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করে। হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘গ্রিক মূর্তি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে অপসারণ করা হয়েছে, এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। সঙ্গে সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনি দ্বীনি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি অপসারণ করেছেন।’

সব মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘ বাংলাদেশ তৌহিদি জনতার দেশ। এই দেশে মূর্তি সংস্কৃতি চলবে না। এ দেশের তৌহিদি জনতা কোনো অবস্থাতেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি স্থাপন করা কখনো মেনে নেবে না। কাজেই যত মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, সমস্ত মূর্তি অপসারণ করা হোক।’

হেফাজতের মহানগর সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উলামায়ে কেরামের কাছে করা ওয়াদা পূরণ করেছেন- এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। এই ‘মূর্তি’ সরানো কঠিন কাজ ছিল, কঠিন কাজটি করতে পারার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

খেলাফত আন্দোলনের মিছিল: ভাস্কর্য অপসারণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের তিন নম্বর ফটক থেকে একটি মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে আবার তিন নম্বর ফটকে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে খেলাফতের মহানগর সভাপতি মুফতি রেদওয়ানুল বারি সিরাজী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবার আবেদন ছিল যেন রমজানের আগে মূর্তিটি সরানো হয়। প্রধাানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, আশ্বাস রেখেছেন। আমরা চাই, বাংলাদেশে ভাস্কর্যের নামে যত মূর্তি আছে সব অপসারণ করা হোক।’

খেলাফত মজলিশ: পল্টনের হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান খেলাফত মজলিশ নেতারা। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, বাংলাদেশে আর মূর্তি স্থাপন মেনে নেবে না তৌহিদী জনতা।

শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা): ভাস্কর্য অপসারণের বিরোধীদের ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামানে সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ইশা জি. এম. রুহুল আমীন বলেন, মূর্তির পক্ষে বামপন্থীরা যে উশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করেছে তা মেনে নেওয়া হবে না।