সর্বনিম্ন স্পেকট্রামে টেলিকম সেবা বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সবচেয়ে কম স্পেকট্রামে গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে। আর এটিই তাদের সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রধানতম কারণ।

অপারেটরগুলো বলছে, স্পেকট্রাম কম হওয়ার পাশাপাশি একই স্পেকট্রামে নানা রকম সেবা দিতে না পারা বা স্পেকট্রাম নিউট্রালিটির অভাব সেবার মান না বাড়ার অন্তরায়।

বাংলাদেশে গড়ে এক অপারেটরের হাতে আছে ২৮ দশমিক ৪ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম। কিন্তু অন্য দেশগুলোতে সেটা অপারেটরভেদে ৭০ থেকে ১১০ মেগাহার্জ পর্যন্ত রয়েছে বলে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এক প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব-এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর বলেন, ‘ক্রমাগত ভয়েসের ডিমান্ডের চেয়ে ডেটার ডিমান্ড বাড়ছে। মোবাইল ফোন অল অ্যাবাউট ডিজিটাল সার্ভিসেস। এখানে ডেটা হচ্ছে প্রধান এনাব্লার। তিন ব্যান্ডের স্পেকট্রামের মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডে থ্রিজি আছে। বাকি ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডে কিন্তু থ্রিজি নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি যে আমাদের টেকনোলজি নিউট্রালিটি দেয়া হোক। তার মানে ১৮০০ ও ৯০০ স্পেকট্রামে যদি থ্রিজি ও ফোরজির সুযোগ।’

অ্যামটব মহাসচিব বলছেন, ‘অপারেটরগুলো সীমিত স্পেকট্রাম নিয়ে আছে অন্যদিকে ক্রমাগত ইউজার বেড়ে যাচ্ছে। কোয়ালিটি অব সার্ভিস খুব গুরুত্বপূর্ণ অপারেটর গুলোর জন্য। তাদের গ্রাহক সেবা যদি ভাল না হয়, কেউ কি চায় তাদের গ্রাহককে অসন্তুষ্ট রেখে ব্যবসা করতে। মোবাইল অপারেটরগুলো সেবাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছে কিন্তু তাদের হাত-পা বাধা।’

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি স্পেকট্রাম যে গ্রামীণফোনের ৩২ মেগাহার্জ সেটিও অন্যান্য উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের অপারেটরের তুলনায় অনেকাংশে কম। আবার গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় গ্রামীণফোন ওইসব দেশের অপারেটরগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে।

বিষয়টি দেখেছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও। সম্প্রতি সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেছেন, দ্রুত তারা আরও স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করবেন। কিন্তু সেখানে যদি অপারেটরগুলো তাদের প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম না কেনে এবং গ্রাহক সেবার মান যদি ভালো না হয় তাহলে উল্টো অপারেটরদের বিরুদ্ধে তখন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রামীনফোন ছয় কোটি গ্রাহক সামলাচ্ছে। রবি-এয়ারটেল মিলিয়ে সাড়ে তিন কোটি গ্রাহক। রবি আর এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর তাদের স্পেকট্রাম এখন ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্জ।

আর টেলিটকের আছে ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্জ। যদিও তাদের গ্রাহক সংখ্যা কম। কিন্তু বাংলালিংকের হাতে মাত্র ২০ মেগাহার্জ। আর তারা সামলাচ্ছে তিন কোটি ২০ লাখ গ্রাহক।

দেশের বাইরে অন্যদের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়ার অপারেটরগুলো গড়ে ৫৬ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। ভিয়েতনামেও সেটি ৪১ মেগাহার্জ। আবার দেশগুলোতে রয়েছে স্পেকট্রাম নিউট্রালিটি।

যুক্তরাজ্যের অপারেটরগুলো গড়ে ১১৫ দশমিক ৯ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে। জার্মানিতে সেটা ১১৪ দশমিক ৮ মেগাহার্জ এবং অস্ট্রেলিয়াতে সেটা ৭২ দশমিক ৮৫।

অপারেটরগুলো বলছে, সরকারে হাতে বিভিন্ন ব্যান্ডে ব্যবহার উপযোগী মোট স্পেকট্রাম রয়েছে ৩৩০ মেগাহার্জ, যার মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১৮২ মেগাহার্জ। আর সবগুলো অপারেটর মিলে ব্যবহার করছে মাত্র ১১৭ মেগাহার্জ।

‘এত অব্যবহৃত স্পেকট্রাম থেকে যাচ্ছে, যেটা বাড়তি কোনো ফলই সরকারকে দেবে না। অথচ গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে এসব স্পেকট্রাম অপারেটরদের দিয়ে দিলে ইন্টারনেটসহ সামগ্রিক সেবার মান বাড়তো এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতিতেও সহায়তা করতো।’

এদিকে বিটিআরসি বলছে, তারা নতুন করে স্পেকট্রাম নিলামের আয়োজন করছেন। একইসঙ্গে যেসব অপারেটরের হাতে অব্যবহৃত স্পেকট্রাম আছে সেগুলো নিয়ে নিয়ে ওই নিলামে উপস্থাপনের ব্যবস্থাও করছেন তারা।

তবে অপারেটরগুলোর কথা, শুধু নিলামের আয়োজন করলেই হবে না। নিলামে যদি উচ্চমূল্য থাকে এবং সেটি যদি তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চয়ে যায় তাহলে নিলাম করেও তাদের জন্যে খুব একটা কাজে আসবে না।