বৈশাখের আকাশে এবার আষাঢ়ের সুর

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ক্যালেন্ডার বলছে বৈশাখ। ঝালকাঠিতে রোদের তাপদ্রহ। প্রকৃতির যেন রুদ্রুমূর্তি। রোদের তেজ মনে করিয়ে চৈত্রের কথা। বেলা হতেই ঠা ঠা রোদ। পথে-প্রান্তরে ঘাম ঝরছে খেটে খাওয়া মানুষের। কর্মজীবী তথা চাকরিজীবীদের পথে বের হলেই গলদঘর্ম ত্রাহি অবস্থা। গরমের দাপটে যখন নাজেহাল এমতবস্থায় দিনভর টিপ টিপ বৃষ্টি। এ যেন বৈশাখের আকাশে অপরিচিত আষাঢ়?

জলবায়ুর পরিবর্তন না বিবর্তন। এবারের বৈশাখ এই প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছে। বৈশাখে কেমন করে ঢুকল আষাঢ় তা আবহাওয়াবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। আকাশ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় মিলছে না কোন সঠিক রিডিং। মেঘ দেখে অঙ্ক কষে ফল আসে আরেকটির। ঘন কালো মেঘের আষাঢ় দখল করে নিয়েছে বৈশাখের আকাশ।

আগে সকাল দেখলেই বোঝা যেতো দিনটি কেমন যাবে! এখন সকাল দেখলে দিনতো দূরে থাক সকালই বোঝা দায়। পালিয়েছে চিরোচেনা আকাশের সাদা মেঘ। কোনায় কোনায় যে কখন কালো মেঘ জমছে তারও হিসাব নেই। কখনও গোটা আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। মেঘলা আকাশে ঘর থেকে ছাতা নিয়ে বের হলেও বৃষ্টির দেখা নেই।

উল্টো ছাতা কোথায় ফেলে রাখা হলো তা মনে থাকে না। আবার আকাশ মোটামুটি ভাল, ঘর থেকে খালি হাতে বের হয়েছেন। অমনি বলা নেই কওয়া নেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। তা আর থামে না। সঙ্গে মেঘের গর্জন আর বজ্রপাত। বৈশাখের কোন চিহ্ন নেই। বৈশাখের দিন যাচ্ছে আষাঢ়ের নিয়মানুযায়ী। প্রকৃতিতে চলছে ঋতু দখলের পালাবদল।

বর্তমানে ঋতু বৈচিত্র্য বলতে যা বোঝায় তা নেই। শীতকাল কখন এলো, মাঘ কখন এসে কখন ফিরে গেল তা টেরই পাওয়া গেল না। বসন্তের দিন টের পাওয়া যায় ফাল্গুনের অনুষ্ঠান ও সাজগোজের চিত্রে। চৈত্রে কাঠফাটা রোদ ছিল না। যে রোদ ছিল তা শীতল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন এটা বিকিরণজনিত ঠান্ডা।

বঙ্গোপসাগর থেকে কোন হাওয়া আসছে না। যা আসছে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে। বৈশাখেও ঘটেনি তার ব্যতিক্রম। মার্চ এপ্রিল পর্যন্ত যে মৌসুমি বায়ু বয়ে যাওয়ার কথা তা নেই এবার। প্রাক মৌসুম শুরু হলেও তা ঠিকছে না। পশ্চিমা লঘুচাপ, উচ্চচাপ বলয় এলোমেলো হয়ে আছে।

দেশে সাধারণত কালবৈশাখীর সময় মার্চ এপ্রিল মে এই তিন মাস। মার্চ ও এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ও হালকা কালবৈশাখী বয়ে গেছে। বাতাসের গতি তেমন ছিল না। তবে বর্ষাকালের মতো বৃষ্টি ছিল। যা এখনও আছে। নলছিটি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, ঝালকাঠিসহ দক্ষিঞ্চলের এলাকায় আষাঢ়ের বর্ষাকালের মতো। প্রবীণরা বলছেন, আগে কখনও দেখা যায়নি এবারের বৈশাখে বর্ষার মতো এমন আচরণ।