জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ২৫ ফাল্গুন (৯ মার্চ): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ মার্চ ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“আজ ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দিবসটি দেশব্যাপী পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।
জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫-২০৩০ এর দুর্যোগ সম্পর্কিত ধারাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই এ বছরের জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস- এর প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগের প্রস্তুতি সারাক্ষণ, আনবে টেকসই উন্নয়ন’ সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশ বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, ভ‚মিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। তাই দুর্যোগের হাত থেকে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রতিরোধে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ পালনকে আমি সাধুবাদ জানাই।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশব্যাপী দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৯৭২ সালে গঠন করেছিলেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের হাত থেকে প্রাণিসম্পদের রক্ষার জন্য দেশের উপক‚লীয় অঞ্চলে তৈরি করেছিলেন ‘মুজিব কিল্লা’।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমরা সকল উন্নয়ন কর্মসূচি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গঠনে সদাপ্রস্তুত। আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থপনা পরিকল্পনা ২০১০-২০১৫ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করেছি।

আমাদের সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদেরকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভ‚মিকম্প এবং বজ্রপাতের ওপর পৃথক পৃথক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করছে। এতে সারাদেশ থেকে জনপ্রতিনিধি, সরকারি চাকুরিজীবী, এনজিও প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছেন। ইতোমধ্যেই বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সারাদেশে ১০ লাখ তালগাছ রোপণসহ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভ‚মিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ক্রয় অব্যাহত রয়েছে। নগর পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হয়েছে। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের ভ‚মিকম্প পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ বিপদ সংকেত পদ্ধতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিহ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন ইত্যাদি কার্যক্রমে আমাদের সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমাদের এসকল পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের নতুন ঝুঁকি প্রতিরোধ ও বিদ্যমান ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সকলের সচেতনতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য আমি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে সদাপ্রস্তুত থাকার আহŸান জানাই।
আমি ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক

সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।