জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১০ মার্চ জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“প্রতি বছরের মতো এ বছরও ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৭’ উদ্যাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ বছর জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগের প্রস্তুতি সারাক্ষণ, আনবে টেকসই উন্নয়ন’ যা জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আজ বিশ্বব্যাপী। প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আজ সুস্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও মাত্রায় ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূমিকম্প, বন্যা, নদীভাঙন, জলোচ্ছ¡াসসহ বজ্রপাতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিডর, আইলার মতো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকাকে তছনছ করেছে। ফলে জীবনহানির পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বজ্রপাতে শতাধিক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সকল উন্নয়ন কর্মসূচিতে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রম সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাহসী জনগণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করে টিকে আছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্য ইতোমধ্যে সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আমরা হয়তো প্রতিহত করতে পারবো না, তবে প্রস্তুতি থাকলে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কারণে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ নির্ধারণ করেছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলা, সাগর-মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার উদ্বুদ্ধকরণ, স্থলজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ, ভ‚মিক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমি ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”