জলবায়ু পরিবর্তন শিশুদের অধিকার খর্ব করে: ইউনিসেফ

নিউজ ডেস্ক:  জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবক্ষয় শিশুদের অধিকার খর্ব করে; বিশেষ করে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে সংকটপূর্ণ।

রোববার ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে বাঁচতে শেখা : বাংলাদেশের শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

‘জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশুদের বিষয়ে নীতি পর্যালোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক ম্যাপিং ও কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএএস) একটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক শাখার (জিইডি) জ্যেষ্ঠ সচিব ও সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ. আতিক রহমান; ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জনাব এডুওয়ার্ড বিগবেডার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বয়স্কদের তুলনায় শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যেসব রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে তার প্রায় ৮৫ শতাংশেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে পানি ও বাতাস-বাহিত রোগব্যাধি, অপুষ্টি, দুর্যোগকালীন মৃত্যু ও আঘাতের হার বাড়ছে। বন্যার কারণে দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবারগুলো তাদের জীবিকা হারাচ্ছে এবং মৌলিক সুবিধাহীন শহুরে বস্তিগুলোতে অভিবাসিত হচ্ছে, যেখানে শিশুরা সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই শিশুরা প্রায়ই স্কুলে যাওয়া করে দিচ্ছে; পাশাপাশি ছেলে শিশুরা শিশুশ্রম এবং মেয়ে শিশুরা শিশুবিবাহের ঝুঁকিতে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করছে এবং এর সুরাহা না হলে সবেচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুরাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুওয়ার্ড বিগবেডার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসমূহ সুস্পষ্ট; যা অসামঞ্জস্যহীনভাবে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জীবনের একটি ভালো সূচনা নিশ্চিত করতে এবং প্রত্যেক শিশুকে তাদের সম্পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী গড়ে তুলতে ইউনিসেফ আরও অবদান রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য সুন্দর জীবন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২০ সালের মধ্যে সামাজিক খাতের বাজেটের ২০ শতাংশ শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ইউনিসেফ।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের মিলিত কার্যক্রম দুর্যোগের দয়ার ওপর বেঁচে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দুর্দশার অবসান ঘটাবে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য প্রতিহত করতে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে অগ্রাধিকারমূলক কর্মপন্থা প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে।